কুমিল্লার মালাস্থপাড়া, মোহনপুর ইউনিয়নের মনোহরপুরে কংশনগর গোমতী নদীর উপর নির্মিত ব্রিজটি এখন মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া, কসবা ও দেবিদ্বার এই চার উপজেলার প্রায় ৩০টি ইউনিয়নের অন্তত ১০ লাখ মানুষ এ ব্রিজের উপর নির্ভর করে চলাচল করছেন। এ সেতুই বহু মানুষের কর্মস্থল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও চিকিৎসা সেবায় পৌঁছানোর একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম।
২০০৩ সালে উদ্বোধন হওয়া এ সেতুটি দীর্ঘদিন সংস্কারবিহীন অবস্থায় রয়েছে। নির্মাণের সময় সেতুটি যথাযথ প্রশস্ত রাখা হয়নি বলে শুরু থেকেই যানজট লেগে থাকত। বর্তমানে বড় বড় যানবাহন, ট্রাক্টর ও পণ্যবাহী ট্রলার চলাচলের কারণে ব্রিজের পিলার নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। সেতুর গার্ডারেও ফাটল ও ঝুঁকির চিহ্ন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কার বা নতুন সেতু নির্মাণ না হলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, যা বহু মানুষের জীবনকে বিপন্ন করবে।
এ সেতুটি দিয়ে একসাথে দুই লেনের গাড়ি চলাচল প্রায় অসম্ভব। ফলে প্রতিদিনই দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। কর্মজীবী মানুষদের সময় নষ্ট হচ্ছে, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে এবং রোগীদের সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানোও অনেক সময় দুষ্কর হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ব্যবসায়ীরাও বলছেন, সেতুর সংকীর্ণতা ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়ে গেছে, এতে ভোগান্তির পাশাপাশি অর্থনৈতিক ক্ষতিও হচ্ছে।
এলাকাবাসী জানান, সেতুটি ভেঙে পড়লে চার উপজেলার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়বে। বিকল্প কোনো সেতু বা সড়ক না থাকায় মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে। তাদের দাবি, অতি দ্রুত সেতুটি নতুন করে নির্মাণ করা হোক। বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুর রব ভূঁইয়া বলেন, “স্বাধীনতার এত বছর পরও আমরা একটি নিরাপদ সেতুর জন্য দাবি করতে বাধ্য হচ্ছি। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ আতঙ্কের মধ্যে এ ব্রিজ দিয়ে যাতায়াত করছে। সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি—অবিলম্বে নতুন ও টেকসই সেতু নির্মাণ করা হোক।”
স্থানীয় সমাজসেবক মোঃ শাহজালাল আল সাগর বলেন, “শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষ—সবারই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্রিজটি ব্যবহার করতে হচ্ছে। এটি সংস্কার বা নতুন করে নির্মাণ না হলে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
অন্যদিকে মোঃ আরিফুল ইসলাম, মোঃ সুজন মোকসুদ, আনিস, বিল্লাল, মজিবসহ অনেকেই বলেন, “এই ব্রিজটি আমাদের চার উপজেলার লাখো মানুষের প্রাণের সেতু। সরকারের প্রতি অনুরোধ, দেরি না করে এখনই নতুনভাবে প্রশস্ত ও টেকসই ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হোক।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বহু বছর ধরে তারা জনপ্রতিনিধিদের কাছে আবেদন করে আসছেন। কিন্তু এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে যেকোনো সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয়রা মনে করছেন, শুধু সংস্কার নয়, বরং নতুনভাবে প্রশস্ত ও শক্তিশালী সেতু নির্মাণ ছাড়া সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তাদের একটাই প্রত্যাশা—সরকার দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে চার উপজেলার লাখো মানুষের প্রাণের দাবি পূরণ করবে।