গাজীপুরের শ্রীপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের শ্রীপুর পৌর শাখার সহ-সভাপতি মো.হাবিবুল্লাহ এক নারীকে বেধড়ক মারধর করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। তা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হলে সমালোচনার ঝড় উঠে ফেসবুকে।
এর একদিন পরেই রোববার (৩১ মে) বিকালে ওই নারীর বিচার নিশ্চিত ও মামলায় আসামী আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কার্যালয়ে হাজির হন গাজীপুর ৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু। এঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে আসামীদের ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের আলটিমেটামও দেন তিনি। পাশাপাশি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনে হওয়া হত্যা মামলায় আসামীদের গ্রেপ্তারের দাবি তুলেন।
এসময় শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহীনুর আলম আসামীদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিয়ে বলেন, স্থানীয় সচেতন মানুষের সহযোগিতা থাকলে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় গ্রেপ্তার করতে পারবে পুলিশ। এছাড়াও সকলে সহযোগিতা কামনা করেন।
এর আগে গত শনিবার (৩০ মে) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার বেড়াইদেরচালা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শ্রীপুর থানায় ১০জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৫ জনের বিরুদ্ধে লুটপাট ও হত্যাচেষ্টা মামলা রুজু হয়েছে। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম হামলা ও মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আহতরা হলেন, বেড়াইদেরচালা এলাকার সমলা খাতুন (৯৫), সাইফুল ইসলাম (৪০), মাসুদা আক্তার (৪২) ও বিথী আক্তার (২৫)। আসামীরা হলেন একই এলাকার মৃত হোসেন আলীর ছেলে হাবিবুল্লাহ (৪৮), তার ভাই সুলতান উদ্দিন (৫০), ফয়সাল (৩০), ফাহাদ (২৮), নুজবেল (২৫), আমিনুল (২৮), হেলাল (৩৮), রাজিব (৩৫), শহিদুল (৪৫) ও আমানত (২৫)। ঘটনার পর থেকে আসামীরা বাড়ী ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছে।
মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওটিতে দেখা যায়- আওয়ামীলীগ নেতা হাবিবুল্লাহ্ লাঠি হাতে এক নারীকে পেটাচ্ছে, এসময় ওই নারীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে দেখা যায়। পরে হাবিবুল্লাহ্’র ছেলেও ওই নারীকে মারদে উদ্যত হন।
মামলার বাদী তাইজুল ইসলাম এজাহারে উল্লেখ করেন, আওয়ামীলীগ নেতা হাবিবুল্লাহ্’র সাথে তাদের জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। জমি সংক্রান্ত বিষয়ে আদালতে আসামীদের বিরুদ্ধে মামলা চলমান রয়েছে। বিজ্ঞ আদালত কাগজপত্র পর্যালোচনা করে বিগত ১৬ ফেব্রুয়ারী তফসিলভুক্ত জমিতে আসামীদেরকে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। আসামীরা আদালতের আদেশ অমান্য করে জমি জবর দখলের চেষ্টা করে। শনিবার (৩০ মে) সকাল ১০ টার দিকে ওই ভোগদখলীয় জমি থেকে কাঁঠাল পাড়ার যায় মামলার বাদী। এসময় কাঁঠাল পড়তে বাধা এবং হুমকি দেয়, কিছু সময় পর আসামীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাদীর ছোট ভাই আতিকুলের বাড়ীতে প্রবেশ করে তার স্ত্রী মাসুদা, মেয়ে বিথি, ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম, রেহেনা আক্তার ও আমার বৃদ্ধা মা সমলা খাতুনকে বাড়ীর উঠানে ফেলে মারধর করে। এসময় নারীদের গলা থেকে স্বর্ণের চেন লুট ও আসামী আমিনুল স্ত্রীর পড়নের কাপড় টেনে হেঁচড়ে অর্ধবিবস্ত্র করে শ্লীলতাহানী করে।
আসামীরা পালিয়ে থাকায় এবং তাদের মোবাইল বন্ধ পাওয়া অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নারীর উপর হামলার খবরে রোববার দুপুরে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান গাজীপুর-৩ সংসদীয় আসনের এমপি অধ্যাপক ডাঃ এসএম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু। এসময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বিগত আওয়ামীলীগের শাসনামলে সে এলাকায় দুধর্ষ হিসেবে পরিচিত ছিল। তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে। সে এখনো এলাকায় এসে ত্রাস সৃষ্টি করে, মায়েদের গায়ে হাত তুলে, শিশুদের নির্যাতন করে। শরীরের বিভিন্ন অংশে দা দিয়ে কুপিয়েছে। একজন ভদ্র মহিলাকে সামান্য ঘটনায় এভাবে মারধর একজন বিবেকবান মানুষের হৃদয় নাড়া দিবেই। থানায় গিয়ে এঘটনায় কি ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা ওসির কাছে জানতে চেয়েছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামীদের গ্রেপ্তার করার কথা বলেছি।