মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার চাঠাতি পাড়া গ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাবা- ছেলে মিলে বৃদ্ধকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ঘাতক ছেলে পলাশ ও বাবা ইউসুফ সেখকে আটক করেছে পুলিশ।
জানাগেছে, সোমবার (১ জুন) সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে নিহত জরিপ সেখের স্ত্রী ফাতেমা বেগম দুধ ক্রয় করার জন্য ইউসুফ সেখ এর ভাই ইদ্রিস সেখের বাড়িতে যায়। এ সময় ইদ্রিস সেখ তার গরুর গোবর বৃষ্টিতে মাঝে মধ্যে ইউসুফ সেখের পাশে যায়। সে জন্য অকথ্য ভাষায় ইদ্রিস সেখকে গালিগালাজ করে। তাকে ( ইদ্রিসকে) গালিগালাজ করার বিষয়টি ফাতেমা বেগমকে জানালে। ইউসুফ সেখ ও তার ছেলে পলাশকে গোবর যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে তারা যেন তার আপন চাচা ইদ্রিস সেখকে গালিগালাজ না করে এ নিয়ে বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করে। এ সময় পলাশ ক্ষিপ্ত হয়ে ফাতেমা বেগমকে ইট দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করলে ফাতেমা বেগম নিজ বাড়িতে ফিরে বিষয়টি তার স্বামী জরিপ সেখকে জানায়।
পরে জরিপ সেখ উক্ত বিষয়টি স্থাণীয় গণ্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গ নিয়ে ফাতেমা বেগমকে মারার কারণ জিজ্ঞাসা করার জন্য ইউসুফ সেখের বাড়িতে গেলে ইউসুফ সেখ ও তারছেলে পলাশ পূনরায় ফাতেমা বেগম, জড়িপ সেখ ও তার ছেলে ফারুক সেখকে দা, বটি, কুড়াল নিয়ে মারতে আসে।
এ সময় ইউসুফ সেখ ধারালো কুড়াল দিয়ে জড়িপ সেখের মাথায় আঘাত করলে জড়িপ সেখ গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে টঙ্গীবাড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় বিক্ষুদ্ধ জনতা ইউসুফ সেখ ও তার ছেলে পলাশকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
এ ব্যপারে স্থানীয় পাঁচগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন বেপারী বলেন, জরিপ সেখের স্ত্রীকে মারধর করায় জড়িপ সেখ আমাকেসহ আরো কয়েক জনকে নিয়ে ইউসুফ এর বাড়িতে যায়। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ইউসুফ সেখ ও পলাশ দা ও কুড়াল নিয়ে জরিপ সেখ ও তারস্ত্রী ছেলেকে পূনরায় মারতে আসে। ইউসুফ সেখ কুড়াল দিয়ে জরিপ সেখের মাথায় আঘাত করলে জড়িপ সেখ মারা যায়।
এ ব্যাপারে টঙ্গীবাড়ি থানা পুলিশে এসআই মো. ওসমান বলেন, এক বৃদ্ধকে কুপিয়ে খুন করার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ২ জনকে আটক করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ মর্গে প্রেরণ করার পক্রিয়া চলছে।