পুষ্টির ‘পাওয়ার হাউস’ হিসেবে পরিচিত মাশরুমের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় ১৩ জন নারী উদ্যোক্তার মাঝে ওয়েস্টার মাশরুম উৎপাদনের প্রশিক্ষণ ও উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। ‘কুমিল্লা অঞ্চলে টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প’-এর আওতায় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এই উদ্যোগ গ্রহণ করে।
বাংলাদেশে নব্বইয়ের দশকে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে মাশরুম আবাদ শুরু হলেও বর্তমানে এর পুষ্টিগুণ ও স্বাদের কারণে স্থানীয় বাজারে এর জনপ্রিয়তা ও চাহিদা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
উপকরণ বিতরণকালে উপজেলা কৃষি অফিসার পাভেল খান পাপ্পু উপস্থিত থেকে উদ্যোক্তাদের হাতে মাশরুমের স্পন, লোহার রেক, ত্রিপল, পাটের বস্তা, স্প্রে মেশিন ও সাইনবোর্ড তুলে দেন। তিনি জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে উপজেলার ১৩ জন কৃষাণীকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। মাশরুম চাষের মাধ্যমে একদিকে যেমন পারিবারিক ও স্থানীয় পুষ্টির চাহিদা মিটবে, অন্যদিকে এটি গ্রামীণ নারীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। উদ্যোক্তাদের সফলতার ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে এই কার্যক্রমের পরিধি আরও বাড়ানো হবে বলে তিনি আশ্বাস প্রদান করেন।
সরকারি এই সহায়তা পেয়ে ছালিয়াকান্দি গ্রামের উম্মে কুলসুম ও বাখরনগর গ্রামের পারুল বেগমসহ সুবিধাভোগী নারীরা অত্যন্ত আনন্দিত। তারা জানান, আধুনিক পদ্ধতিতে মাশরুম চাষের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পাওয়ায় তারা এখন বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের স্বপ্ন দেখছেন। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।