কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় পরকীয়া প্রেমের এক করুণ ও রহস্যময় পরিণতি দেখল এলাকাবাসী। দেবরের সঙ্গে গড়ে ওঠা নিবিড় সম্পর্কের টানাপোড়েনে রুমা আক্তার (৩২) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। প্রবাসী স্বামীর অগোচরে চাচাতো দেবরের সাথে গড়ে ওঠা এই সম্পর্ক এখন পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে উপজেলার গুঞ্জর গ্রামে। নিহত রুমা আক্তার ওই গ্রামের ওমান প্রবাসী সুমন মিয়ার স্ত্রী এবং চার সন্তানের জননী।
প্রেমের ফাঁদ ও করুণ পরিণতি
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, স্বামী প্রবাসে থাকার সুযোগে প্রতিবেশী দেবর ও অটোরিকশাচালক সম্রাট (২০)-এর সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন রুমা। দীর্ঘদিনের এই ‘গোপন অধ্যায়’ নিয়ে কানাঘুষা থাকলেও সম্প্রতি তা চরম আকার ধারণ করে।
অভিযোগ উঠেছে, সম্রাট বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে রুমার সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়ালেও শেষ পর্যন্ত বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। এই অভিমানেই রুমা বিষপান করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিহতের দেবর রাকিবুল ইসলামের বক্তব্যে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তিনি জানান, “ভাই বিদেশে থাকায় আমিই সব দেখাশোনা করতাম। কিন্তু ইদানীং রুমার আচরণে পরিবর্তন আসে। সে বারবার সিম কার্ড পাল্টাত এবং ইন্টারনেটের সমস্যার অজুহাত দিত। ভাই দেশে ফেরার পর তার মোবাইলের কললিস্ট ও মেসেজ ঘেঁটে সম্রাটের সাথে সম্পর্কের বিষয়টি নিশ্চিত হন।”
ঘটনার রাতে রুমাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, “আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই স্পষ্ট হবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”