★ যত দিন যাচ্ছে, বাড়ছে জামায়াত প্রার্থী ইউসুফ হাকিম সোহেলের প্রতি আস্থা
★ তরুণ প্রজন্মের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব
★ বিএনপি পুরোনো শক্তি নিয়ে মাঠে থাকলেও জনভিত্তিতে পিছিয়ে পড়ার শঙ্কা
★ জনসমর্থন জোগাতে সক্রিয় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
★ গণ অধিকার পরিষদ ও জাতীয় পার্টির কার্যক্রম অনেকটাই নিষ্ক্রিয়
অন্তবর্তী সরকারের অধীনে সম্ভাব্য জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে দিন দিন বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। এক সময়কার স্থবির বিরোধী রাজনীতি এখন আবার সরব হয়ে উঠছে। বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলনসহ স্বতন্ত্র প্রার্থীও প্রস্তুতি নিচ্ছেন নির্বাচনী লড়াইয়ের। তবে স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রিয়তা ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসছে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ইউসুফ হাকিম সোহেলের নাম।
দীর্ঘদিন সংগঠনভিত্তিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি তৃণমূলে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন। সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে জনগণের সঙ্গে তার নিবিড় সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক মাঠে অন্যদের আগে প্রার্থীতা নিশ্চিত করে তিনি প্রচারণা জোরদার করায় নারী-পুরুষ ও তরুণ প্রজন্মের আস্থা ক্রমেই তার দিকে ঝুঁকছে। স্থানীয়দের মতে, সোহেলের প্রতি ভোটারদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে, বিশেষ করে তার সরল জীবনযাপন ও মাঠকর্মীদের নিবেদিত প্রচেষ্টার কারণে।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ইউসুফ হাকিম সোহেল বলেন, “মুরাদনগরের মানুষ উন্নয়ন বঞ্চিত। সড়ক, স্বাস্থ্যসেবা আর শিক্ষার মান আজো অবহেলিত। আমি রাজনীতি করি মানুষের কল্যাণে, দল-মত নির্বিশেষে জনগণের পাশে দাঁড়াতে চাই। যদি জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে সুযোগ দেয়, তবে মুরাদনগরকে একটি আধুনিক ও উন্নয়নমুখী এলাকায় রূপান্তরিত করা হবে ইনশাআল্লাহ।”
অন্যদিকে, জুলাই যোদ্ধা ও অন্তবর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না তা এখনো অনিশ্চিত। তবে তারুণ্য ও আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তরুণদের মাঝে তার একটি ইতিবাচক গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে। তিনি এনসিপির হয়ে প্রার্থী হলে বড় চমক দেখা দিতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কায়কোবাদ একসময় জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী ভূমিকা রাখলেও বর্তমানে তার জনপ্রিয়তা আগের মতো নেই বলে মনে করছেন অনেকে। একদিকে বয়সজনিত সীমাবদ্ধতা, অন্যদিকে দীর্ঘ অনুপস্থিতি তাকে মুরাদনগরের তরুণ ভোটারদের কাছে তুলনামূলকভাবে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। ফলে বিএনপির ঘাঁটিতে নতুন করে আশার সঞ্চার হলেও মাঠ পর্যায়ে সংগঠনের শক্তি আগের মতো দৃঢ় নয়।
বিএনপির উপজেলা সভাপতি মহিউদ্দিন অঞ্জন বলেন, “মুরাদনগর সবসময়ই বিএনপির ঘাঁটি ছিল। দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা এখনও ঐক্যবদ্ধ। কেন্দ্র যাকে প্রার্থী করবে, আমরা তার পাশে থেকে মাঠে লড়াই করব। আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনা।”
এদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম বিষয়ভিত্তিক রাজনীতি ও জনসম্পৃক্ত প্রচারণার মাধ্যমে একটি ভিন্নধারার ভোট ব্যাংক তৈরির চেষ্টা করছেন।
অন্যদিকে, মাঠ পর্যায়ে অনেকটা নীরব ভূমিকা পালন করছে গণ অধিকার পরিষদ ও জাতীয় পার্টি। মাঝে মাঝে তারা বৈঠক করলেও প্রচারণা কিংবা জনসম্পৃক্ত কার্যক্রমে কার্যত অনুপস্থিত। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের ভাষ্য, “এই দুই দলের নেতাকর্মীরা এখনো দিকনির্দেশনার অপেক্ষায় আছেন। কেন্দ্র থেকে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত মুরাদনগরে তাদের রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়বে না।” এর ফলে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী শক্তিগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মুরাদনগরের নির্বাচনী সমীকরণ জাতীয় রাজনীতির গতিপথের ওপর নির্ভর করলেও স্থানীয়ভাবে জামায়াত প্রার্থী ইউসুফ হাকিম সোহেলই সবচেয়ে বেশি গতি পেয়েছেন। বিএনপির ভোট বিভাজন, ইসলামী আন্দোলনের সক্রিয়তা এবং তরুণদের প্রভাব আসনটিকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলতে পারে।
সাধারণ ভোটাররা বলছেন, “আমরা শুধু মুখের বুলি চাই না, এলাকার উন্নয়ন চাই। স্বাস্থ্য, শিক্ষা আর কর্মসংস্থান নিয়ে যে কাজ করবে তাকেই ভোট দেব।”
সব মিলিয়ে মুরাদনগরের আসনটিতে প্রচলিত বনাম উদীয়মান নেতৃত্ব এবং ধর্মীয় বনাম প্রথাগত রাজনীতির লড়াই স্পষ্ট হচ্ছে। সুষ্ঠু ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোট হলে এটি হতে পারে জাতীয় নির্বাচনের অন্যতম আলোচিত আসন।