কুমিল্লার মুরাদনগরে প্রশাসনের ভাবমূর্তিকে কলঙ্কিত করে এক সরকারি কর্মকর্তার গাড়ি চালককে ঘিরে বড় ধরনের কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে। এসিল্যান্ডের (সহকারী কমিশনার ভূমি) গাড়িচালক নেয়ামত দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বের অপব্যবহার করে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান শুরুর আগেই গোপনে তথ্য ফাঁস করে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযানের খবর আগেই পেয়ে যায় অবৈধ বালু ড্রেজার মালিক ও অন্যান্য চক্র। এতে সরকারি অভিযান একের পর এক ভেস্তে যাচ্ছে এবং আইনের প্রতি মানুষের ভীতি হারিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, নেয়ামত নিয়মিতভাবে অবৈধ ব্যবসায়ীদের কাছে অভিযানের তথ্য পৌঁছে দেন। ফলে এসিল্যান্ডের গাড়ি পৌঁছানোর আগেই তারা অবৈধ কার্যক্রম সরিয়ে ফেলে বা গা ঢাকা দেয়। সরকারি অভিযানকে পঙ্গু করে দেওয়ার পেছনে তার সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
শুধু তথ্য ফাঁস নয়, সমগ্র উপজেলার ২২টি ইউনিয়নজুড়ে বিভিন্ন বিকাশ একাউন্টের মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে তথ্য বেচাকেনারও অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একবার তার কাছে টাকা দিলে বারবার দিতে হয়। না হলে উল্টো এসিল্যান্ডকে দিয়ে ধরা দেওয়ার ভয় দেখান।
একজন অভিযোগকারী বলেন, একবার টাকা দিলেই আর রক্ষা নেই। সে বারবার ফোন দিয়ে টাকা দাবি করে।
একজন স্থানীয় ভুক্তভোগী বলেন, এসিল্যান্ড আসার আগেই যদি খবর পৌঁছে যায়, তাহলে অভিযান চালিয়ে লাভ কী? একজন গাড়িচালকের কারণে প্রশাসনের কার্যক্রমই ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে।
আরেকজন অভিভাবক জানান, অবৈধ ড্রেজারের কারণে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস হচ্ছে। অথচ টাকার লোভে একজন ড্রাইভার পুরো প্রশাসনকে অকার্যকর করে ফেলেছে।
এক প্রবীণ স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একজন ড্রাইভারের হাতে পুরো প্রশাসন জিম্মি হয়ে পড়েছে—এটা লজ্জাজনক। এখনই ব্যবস্থা না নিলে মুরাদনগর এলাকা ধ্বংস হয়ে যাবে।
ভুক্তভোগী শাহ্ আলম জানান, আজকে দুই মাস যাবৎ এসিল্যান্ড অফিসে অভিযোগ দিচ্ছি। সবশেষ অভিযোগ দিলাম চলতি বছরের ১৭ ও ২৫আগস্ট কিন্তু আজকে ২সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অসহায় কৃষকদের ১৫শতাংশ জমি রক্ষার কোনো ব্যবস্থা হয় নি। স্যার ৩জন লোক রাখতে বলছে। তারপরেও কোনো ফল পাচ্ছি না। এটার কারণ কি তাহলে নেয়মত, যে অপরাধী চক্রকে সতর্ক করে দেয়?
তিনি আরও বলেন, “কোনো ব্যক্তি অভিযোগ করলে সেই অভিযোগের কপি ড্রেজার ব্যবসায়ীর কাছে চলে যায়, এটা কীভাবে সম্ভব? পরে ড্রেজার ব্যবসায়ীরা হুমকি ধমকি দিয়ে ভয়ভীতি দেখায়।”
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ড্রেজার ব্যবসায়ী জানান, “আমরা বিপদে পড়ে তার কাছে গিয়েছিলাম। কিন্তু একবার গেলেই সর্বনাশ। কিছুদিন পরপর সে ফোন দিয়ে টাকা দাবি করে। যারা তাকে কখনো টাকা দেয়নি, তারাই নিরাপদ।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নেয়ামত জানান, “আমার কোনো দোষ নেই। কিছু মানুষ আমাকে ফাঁসানোর জন্য এসব করছে। কোনো ধরনের অপরাধের সাথে আমি জড়িত না।”
কুমিল্লার জেলা প্রশাসক বলেন, “বিষয়টি দেখার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বলবো। যদি অপরাধ করে তাহলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, একজন গাড়িচালকের হাতে প্রশাসনের মর্যাদা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া দেশের জন্য ভয়ঙ্কর অশনিসংকেত। বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তারা সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।