খুলনা জেলার কয়েকটি উপজেলা ও সাতক্ষীরা জেলার দুটি উপজেলার কিছু অংশ নিয়ে প্রস্তাবিত সুন্দরবন জেলা ৪৪ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি।
অথচ এর দাবীতে ঢাকার রাজপথসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় আন্দোলন সংগ্রাম হলেও আজও তা থেকে গেছে অধরা। সুন্দরবন জেলা বাস্তবায়ন কমিটির পাশাপাশি সুন্দরবন জেলা বাস্তবায়নের ছাত্র সংগ্রামও কমিটি গঠিত হয়েছে। এ কমিটির ব্যানারে তুমুল আন্দোলন সংগ্রাম হয়। জাতীয় নির্বাচনের সময় অনেক প্রার্থীরা বিষয়টা নিয়ে সংসদে উত্থাপন করবেন এবং দক্ষিণাঞ্চলের মানুষে গণ দাবী বাস্তবায়ন করবেন। কিন্তু একবার সংসদে যাওয়ার পর অনেকেই বিষয়টি ভুলে গিয়েছেন। দাবীর জায়গায় দাবীই রয়ে গেছে। এ দাবীতে গঠিত হয়েছে সুন্দর বন জেলা বাস্তবায়ন পরিষদ। যার উদ্যোগে ২০২৫ সালে খুলনার পাইকগাছা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা বাস্তবায়ন পরিষদের সদস্য সচীব শেখ সাদেকুজ্জামান লিখিত বক্তব্য সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ১৯৮২ সালে কয়রা- পাইকগাছা উপজেলা ও পাশ্ববর্তী তালা, আশাশুনি, ও দাকোপ উপজেলার আংশিক এলাকা নিয়ে সুন্দরবন জেলা ঘোষনা দেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তার। কালের বিবর্তনে আজ ৪৪ বছর বছর পার হয়েছে। কিন্তু জনগণের নায্যদাবী আজও বাস্তবায়ণ হয়নি।
এদিকে সুন্দরবন জেলা বাস্তবায়ণ কমিটির আহবায়ক এ্যাড, জিএ সবুর বলেন, সুন্দরবন জেলা বাস্তবায়ন আমাদের নায্য দাবী। এটা বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিনে অবস্থিত এর পরে আছে সুন্দরবন আর বঙ্গোপসাগরে। খুলনা সদর থেকে পাইকগাছার দুরত্ব ৬৮.০১ কিঃ মিঃ। কয়রার দুরত্ব ১২০ কিলোমিটার। এর থেকে কম দুরত্বে অসংখ্য জেলা রয়েছে। যাদের থেকে আমরা সরকারকে প্রচুর রাজস্ব দিয়ে থাকি। রাজস্ব আয়ের উৎস হিসেবে আছে। মানগ্রোভ সুন্দরবন ও হিমায়িত রপ্তানি পণ্য সাদা সোনা খ্যাত চিংড়ী, কাঁকড়া।
আছে লোনা পানি মৎস্য গবেষণা কেন্দ্র ও একটি প্রথম শৃেণীর পৌরসভা। একটি জেলা গঠনে যা যা থাকা প্রয়োজন সবই রয়েছে। প্রস্তাবিত সুন্দরবন জেলা আর বাস্ততবায়ন হচ্ছেনা। সুন্দরবন জেলা বাস্তবায়ন ছাত্র সংগ্রাম কমিটির তৎকালীন আহবায়ক জিএম মিজানুর রহমান বলেন,কয়রা ও পাইকগাছা থেকে জেলা শহরের কাজ মিটাতে দিনের পর দিন সর্বসাধারণকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। এখানে আছে ফৌজদারী ও দেওয়ানি আদালত। নির্মাধীন রয়েছে জেলখানা। সরকারের সদিচ্ছার কারণে প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন হয়নি।
সুন্দরবন জেলা বাস্তবায়ণ পরিষদের আহবায়ক এসএম রফিকুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবন জেলা বাস্তবায়নের দান্বূতে আমাদের কঠোর আন্দোলনের বিকল্প নেই। এর জন্য আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে নেমে পড়তে হবে।