বিরোধী দলকে ইঙ্গিত করে কঠোর বার্তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, কিছু রাজনৈতিক শক্তি এখনো দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তারা সংবিধানের কথা বললেও স্বাস্থ্য, প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা ও নারী উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে কোনো বাস্তব পরিকল্পনা তুলে ধরতে পারে না। তিনি বলেন, “অতীতের মতো এখনও ষড়যন্ত্র চলছে। ইতিহাস সাক্ষী—বারবার এই গোষ্ঠীগুলো দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে। কিন্তু এবার জনগণ সচেতন, তারা আর বিভ্রান্ত হবে না।”
বগুড়ার আলতাফুন্নেসা খেলার মাঠে আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের বেকার যুবকদের জন্য দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে সরকার কাজ করছে। স্বল্প খরচে বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির জন্য ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়েছে এবং খুব শিগগিরই এ বিষয়ে সুসংবাদ আসবে।
তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণআন্দোলনের কথা স্মরণ করে বলেন, “ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমেই স্বৈরাচারের পতন হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় আমরা ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছি এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার কমিশনেও তা জমা দিয়েছি।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার সবকিছু স্বচ্ছভাবে পরিচালনা করতে চায় এবং মতপার্থক্য থাকলেও তা জনগণের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক সহায়তা, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ ও কর্মসংস্থানের মতো জনগণমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। “বাংলাদেশের মানুষ যে ম্যান্ডেট দিয়েছে, আমরা সেই অনুযায়ী কাজ করব এবং জুলাই সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করব,”—যোগ করেন তিনি।
দিনব্যাপী উন্নয়ন কর্মসূচি এর আগে সকালে বগুড়ায় একাধিক উন্নয়নমূলক কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে ‘দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাগবাড়ীর নশিপুর এলাকায় চৌকিরদহ খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি। সংশ্লিষ্টরা জানান, এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
একই দিনে তিনি বগুড়া জেলা আইনজীবী সমিতির নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন, আদালতে ই-বেইল বন্ড কার্যক্রম চালু, বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন কার্যক্রমের সূচনা, আমের টিকা কার্যক্রম উদ্বোধন এবং গাবতলীতে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
দিনব্যাপী এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে বিচারব্যবস্থা, নগর উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা ও পরিবেশ সংরক্ষণ—এই চার খাতে সমন্বিত অগ্রযাত্রার সূচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
জনসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী বগুড়া প্রেসক্লাবের নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, একদিনে বহুমুখী এসব উদ্যোগ বগুড়ার সার্বিক উন্নয়নে নতুন গতি সঞ্চার করবে।