মুরাদনগর কাজী নোমান আহমেদ ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক দীন দয়াল পাল একাধিক বিতর্ক ও অভিযোগের জালে জড়িয়ে পড়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত দয়ালের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও বিএনপির সাবেক মন্ত্রী কাজী শাহ্ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদকে অপসারণের চেষ্টা, ক্লাসে পাঠদানে অবহেলা, বোর্ড পরীক্ষায় নকল সরবরাহ এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অত্যধিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে জুলাই আন্দোলনের নেতা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি আলোচনায় এসেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীন দয়াল পালের পৈতৃক নিবাস মুরাদনগর উপজেলার মাজুর গ্রামে। চাকুরির সুবাদে উপজেলা সদরের সাহাপাড়ায় বসবাস তার। সেখানে গড়ে তুলেছেন ডুপ্লেক্স বাড়ী। আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে বউকে করেছেন পাঁচপুকুরিয়া বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে ইউসুফ হারুনের সহায়তায় অসহায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় একাধিক সংখ্যালঘু বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অবস্থায় জানান, “সম্প্রদায়গত সংঘাতের সময়ে তার ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। সে সবসময় আওয়ামী নেতাদের রক্ষা করতে বক্তব্য দিয়ে গিয়েছেন।”
শিক্ষাঙ্গনসংশ্লিষ্ট অভিযোগে বলা হয়, দয়াল পাল উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় নকল সরবরাহ ও ক্লাসে নিয়মিত উপস্থিত না থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকেন, প্রাইভেট না পড়লে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেবার হুমকি প্রদান করেন।
দ্বাদশ শ্রেণির ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী হাসান অভিযোগ করে বলেন, “স্যার প্রায়ই ক্লাস ফাঁকি দেন। রাজনৈতিক মিছিল বা দলীয় অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতিই বেশি চোখে পড়ে। প্রাইভেট পরতাম না তাই পরীক্ষায় ফেল করার হুমকি দিয়েছে বহুবার।” গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে ভোট চেয়ে প্রকাশ্যে জনসংযোগে তার সক্রিয় ভূমিকা স্থানীয় পর্যায়ে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
সরকারী নীতিমালায় কোনো শিক্ষক কর্তৃক রাজনৈতিক প্রচারণা ও সম্পৃক্ততা নিষিদ্ধ হবার পরেও তার এসব কর্মকান্ড নিয়ে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর মৌখিক অভিযোগ করা হলে, সাবেক সৈরাচার এমপি ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুনের সহায়তায় রক্ষা পেয়ে যান তিনি।
সম্প্রতি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জুলাই আন্দোলনের নেতা ও অর্ন্তবর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় বিবৃতি দেন। তার এ পদক্ষেপকে কিছু মহল “জুলাই আন্দোলনের গতিপথ পরিবর্তনের চেষ্টা” হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। বিরোধী রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর দাবি, আওয়ামী লীগের সমর্থকরা পুনরাজনৈতিক প্রভাব বাড়াতে অন্যদলগুলোতে ভিড়তে এমন কৌশল নিয়েছে।
সংখ্যালঘুদের ব্যানারে আওয়ামী লীগের আস্থাভাজন ব্যক্তি কর্তৃক এধরণের সংবাদসম্মেলন করায় ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকার অধিকাংশ হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। তারা বলছেন, আওয়ামী দোষরদের গায়ে শিক্ষার্থীদের রক্তের ছাঁপ লেগে আছে। তারা আমাদের নাম ব্যবহার করে নিজেরা সুবিধাভোগ করা কিংবা ফায়দা লুটতে পারে না।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ,মুরাদনগর উপজেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক নিত্যানন্দ রায় বলেন, সংবাদ সম্মেলন করতে হলে কেন্দ্রের অনুমতি প্রয়োজন। তিনি যেসব কথা বলেছেন সংবাদ সম্মেলনে সেগুলো বাস্তবে ঘটেনি। তিনি কেনো এধরণের কাজ করেছে সেটা তার ব্যক্তিগত বিষয়, আমি বলতে পারবো না। তিনি নিজেই সেই প্রশ্নের জবাব দিবেন।
এসব অভিযোগের জবাব জানতে দীন দয়াল পালের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। অন্যদিকে, মুরাদনগর কলেজ কর্তৃপক্ষ অভিযোগগুলো তদন্তের কথা জানালেও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।