কুমিল্লার মুরাদনগরে পাগলা কুকুরের তাণ্ডবে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার শ্রীরামপুর, গাজীপুর, বিষ্ণুপুর ও দিঘীরপাড় গ্রামে এ আতঙ্কজনক ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ গ্রামগুলোতে প্রবেশ করে নারী, পুরুষ ও শিশুদের নির্বিচারে কামড়াতে থাকে। এতে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন গুরুতরভাবে আহত হন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন মাজেদা বেগম (৪০), শিশু আবু সাইদ (৫), প্রবীণ হামদু মিয়া (৯০), মো. আবুল মিয়া (৬০), লুৎফা বেগম (৩০), মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ (৩২), আসমা বেগম ও শিশু শাকিল মিয়া (৭)। এছাড়া স্থানীয় হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশুও কুকুরটির আক্রমণ থেকে রক্ষা পায়নি।
আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। তবে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার সকালেও কুকুরটি নতুন করে হামলা চালায়। উপজেলার বাঙ্গরা পূর্ব ইউনিয়নের খামারবাড়ী গ্রামে আরও পাঁচজনকে কামড়ানোর পর গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে কুকুরটিকে পিটিয়ে হত্যা করে।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আলী বলেন, “বেওয়ারিশ কুকুর আমাদের দপ্তরের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। কেবল মালিকানাধীন প্রাণীর জন্যই এই দপ্তর কার্যকর ভূমিকা পালন করে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুর রহমান বলেন, “শুক্রবার সকালে কুকুরটিকে স্থানীয়রা হত্যা করেছে বলে আমরা জেনেছি। তবে এটি অত্যন্ত ভয়ংকরভাবে হামলা চালিয়েছে। আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিতে হাসপাতালে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।”
ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা জানান, এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এ ধরনের দুর্ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত প্রতিকারমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।