কুমিল্লার মুরাদনগরে নিছা মনি নামে ছয় বছরের এক শিশুকে অমানুষিক নির্যাতনের পর শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার সকালে উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের মোচাগড়া গ্রামে এ লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের আপন চাচাত ভাই রাসেলকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে অভিযুক্ত রাসেল খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে শিশু নিছা মনিকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। নির্জন স্থানে নিয়ে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে শিশুটি চিৎকার শুরু করলে ঘাতক তার গলা চিপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে হাত-পা ও মুখ বেঁধে বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেয়।
নিছা মনি নিখোঁজ হওয়ার পর ঘাতক রাসেল নিজেও পরিবারের সাথে খোঁজাখুঁজির নাটক করে এবং এলাকায় মাইকিং করার বুদ্ধি দেয়। তবে তার অসংলগ্ন কথাবার্তা ও আচরণে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। গ্রামবাসী তাকে ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করলে একপর্যায়ে সে হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দেয়। এসময় উত্তেজিত জনতা তাকে গণধোলাই দিয়ে থানায় খবর দেয়।
নিহত শিশুটির দাদি জানান, পরিবারের কারো সাথে কোনো বিরোধ ছিল না। বিনা কারণে কেন এমন নৃশংসতা ঘটানো হলো, তা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে মুরাদনগর থানার ওসি মো. হাসান জামিল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন।
ওসি মো. হাসান জামিল জানান, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আটককৃত যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।