বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অনেক নেতাকর্মীকে মূল্য দিতে হয়েছে তাদের রাজনৈতিক বিশ্বাসের জন্য। মোঃ দুলাল সরকার তেমনই একজন, যিনি ২০০১ সালে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন এবং সেই পথচলায় নানান চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন।
২০০১ সালে বিএনপির সক্রিয় রাজনীতিতে জড়িত হওয়ার পর থেকেই দুলাল সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের হতে থাকে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তিনি ৪ মাস ১৬ দিন কারাগারে কাটিয়েছেন। এ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে ৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা তার রাজনৈতিক জীবনকে আরও সংকটপূর্ণ করে তুলেছে।
রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হয়ে মোঃ দুলাল সরকারের ব্যবসাও চরম ক্ষতির সম্মুখীন হয়। মামলা ও রাজনৈতিক চাপে তার বিভিন্ন ব্যবসা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে, যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকারও বেশি। শুধু তাই নয়, রাজনৈতিক দমন-পীড়নের কারণে তাকে স্ত্রী-সন্তানসহ এলাকা ছাড়তে বাধ্য হতে হয়। তার সন্তান বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাও দিতে পারেনি, যা পরিবারের জন্য ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে মোঃ দুলাল সরকার নিজের এলাকায় ঈদ উদযাপন করতেও পারেননি। শুধু তাই নয়, সমাজসেবামূলক কার্যক্রম, যেমন জাকাত বিতরণ বা অন্য কোনো সামাজিক উদ্যোগেও তাকে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। এসব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তিনি দলের প্রতি ছিলেন অবিচল।
সব প্রতিকূলতা সহ্য করেও বিএনপির রাজনীতি থেকে সরে যাননি মোঃ দুলাল সরকার। দলের প্রতি তার একনিষ্ঠতা ও ত্যাগ তাকে প্রকৃত অর্থে একজন ত্যাগী নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে অনেক নেতাকর্মী তাদের সংগ্রামের মূল্য দিয়েছেন। মোঃ দুলাল সরকারের জীবনও এমনই এক সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি, যেখানে রাজনীতি শুধু আদর্শের বিষয় নয়, বরং বেঁচে থাকার লড়াইও বটে। সময়ই বলে দেবে, এই ত্যাগের প্রতিদান তিনি কবে এবং কীভাবে পাবেন।
বিএনপি নেতা কে এম মুজিবুল হক বলেন, দুলাল আমাদের পরিবার ও দলের জন্য অনেক কিছু করেছেন। সে তার জীবন যৌবন বিলিয়ে দিয়েছেন দলের জন্য ও মুরাদনগরবাসীর প্রানের প্রিয় দাদা ভাই কায়কোবাদ সাহেবকে ভালোবেসে। দাদা পরিবারকে ভালোবাসায় বিগত সরকারের আমলে জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছে সে যার পরিমান ভোগ করেছে তার পরিবার।