ঢাকাপ্রতিদিন অপরাধ ও দূর্নীতি ডেস্ক : জামালপুরের মেলান্দহে হাজরাবাড়ী জেনারেল হাসপাতাল নামে একটি প্রাইভেট হাসপাতালের এক নারী নার্স বকেয়া বেতন চাইতে গেলে নারী নার্সকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের মালিকের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (৩ জুন) দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে। এর আগে সোমবার (২ জুন) দুপুরে ওই হাসপাতালে নারী নার্স মারধরের শিকার হলে ওই দিনেই থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযুক্তরা হলেন- হাজরাবাড়ী জেনারেল হাসপাতালের মালিক মাদারগঞ্জ উপজেলার উত্তর জোড়খালী এলাকার মৃত ফজলুল হকের ছেলে মো. সবুজ এবং মেলান্দহ উপজেলার গুজামানিকা এলাকার মৃত ধবু সরকারের ছেলে মো. রফিক।
ওই নারী নার্সের নাম আশা মনি, তিনি মেলান্দহ পৌরসভা শহরের বাসুদেবপুর এলাকার আসর শেখের মেয়ে।
থানায় লিখিত অভিযোগ বলা হয়, `দুই বছর ধরে হাজরাবাড়ী জেনারেল হাসপাতালে নার্স হিসেবে চাকরি করেন আশা মনি নামে ওই নারী। হাসপাতালের মালিক পক্ষ প্রথমদিকে সময়মতো বেতন দিলেও গত পাঁচ মাস ধরে কোনো বেতন পরিশোধ করেনি। বেতন চাইতে গেলেই দেবে দেবে বলে জানান।
গত সোমবার দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে বকেয়া বেতন দিতে বললে মো. সবুজ ও মো. রফিক উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। হঠাৎ করেই তারা দুজনে মিলে তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে থাকেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন।
পরে ওই দিন রাতেই থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।খোঁজ-খবর নিয়ে জানা গেছে, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাবে হাসপাতালটি অনুমতি নিয়েছে। হাসপাতালটি সেবার মানে একেবারেই নিম্ন। গ্রামের সহজ সরল মানুষকে ডেকে নিয়ে ভালো চিকিৎসার কথা বলে সুকৌশলে টাকা হাতিয়ে নেন। এ ছাড়াও হাসপাতালে যে কয়জন কর্মচারী রয়েছে তাদেরকেও দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে নিয়মিত বেতন দিচ্ছে না।সবারই তিন থেকে পাঁচ মাসের বেতন বাকি রয়েছে। বেতন চাইতে গেলেই রাগান্বিত হয়ে ওঠে।
মঙ্গলবার (৩ জুন) দুপুরে হাজরাবাড়ী জেনারেল হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের অধিকাংশ কক্ষ তালাবদ্ধ। চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ, মালিক পক্ষ ও অধিকাংশ কর্মচারী গা ঢাকা দিয়েছেন। অপারেশন থিয়েটার, রিসেপশন ও ব্লাড কালেকশন রুমসহ হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটগুলো বন্ধ অবস্থায় দেখা যায়।
অভিযুক্ত মো. সবুজ বলেন, ‘আশা মনির এক মাসের বেতন বাকি রয়েছে, পাঁচ মাসের নয়। ওই দিনই তাকে টাকা দেয়ার কথা ছিল। তবে হাসপাতালের ফার্মেসির কিছু দেনা পরিশোধ করতে গিয়ে টাকা হাতে রাখা যায়নি। আর মারধরের কোনো ঘটনাই ঘটেনি, শুধু কিছু কথা কাটাকাটি হয়েছে।’
এ বিষয়ে মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আশা মনি নামে এক নার্স থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ পাওয়ার পরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে এসেছে। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা মিলেছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
ঢাকাপ্রতিদিন/এআর