দীর্ঘ ৩০ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পূর্ণমন্ত্রী পেল কুমিল্লার মুরাদনগর (কুমিল্লা-৩) আসনের বাসিন্দারা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সরকারে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন এই আসনের হেভিওয়েট নেতা ও জননন্দিত ব্যক্তিত্ব আলহাজ্ব কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। গত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ ভবনের মাঠে রাষ্ট্রপতির কাছে তিনি এই শপথ গ্রহণ করেন।
মুরাদনগরের রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ১৯৯১ সালে ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পর দীর্ঘ তিন দশকে এই জনপদ থেকে আর কেউ মন্ত্রিসভায় পূর্ণ মন্ত্রিত্ব পাননি। এই দীর্ঘ সময়ে মুরাদনগরবাসী প্রতিমন্ত্রী পেলেও পূর্ণমন্ত্রীর স্বাদ পাওয়া থেকে বঞ্চিত ছিল।
কায়কোবাদের পূর্ণমন্ত্রী হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই মুরাদনগরের ২২টি ইউনিয়নে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। মিষ্টি বিতরণ, আনন্দ মিছিল আর আতশবাজিতে মুখর হয়ে উঠেছে এলাকা। স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, কায়কোবাদকে পূর্ণমন্ত্রী করা মুরাদনগরের সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ছিল।
মুরাদনগর কুমিল্লার একটি বিশাল এবং গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা। বিগত কয়েক দশকে এখানে ব্যাপক উন্নয়ন হলেও নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে সরাসরি নেতৃত্বের অভাব বোধ করছিল স্থানীয়রা। কায়কোবাদ এর আগে জাতীয় পার্টির শাসনামলে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং বিএনপি সরকারের আমলেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তবে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে তাঁর এই অভিষেককে “অভিজ্ঞতার সঠিক মূল্যায়ন” হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
প্রতিক্রিয়ায় স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা এবং বাজার কমিটির এক নেতা বলেন, “আমরা অনেক দিন ধরে চেয়েছিলাম মুরাদনগর থেকে একজন পূর্ণমন্ত্রী হোক। কায়কোবাদ সাহেব এলাকার মানুষের নাড়ি বোঝেন। তিনি মন্ত্রী হওয়ায় এখন মুরাদনগরের বাকি থাকা উন্নয়নমূলক কাজগুলো আরও দ্রুত গতিতে সম্পন্ন হবে।”
শপথ গ্রহণ শেষে এক সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ বলেন, “এই অর্জন আমার একার নয়, এটি মুরাদনগরের সর্বস্তরের মানুষের। আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা আমি সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করব এবং মুরাদনগরকে একটি আধুনিক ও উন্নত জনপদে রূপান্তর করব ইনশাআল্লাহ।”
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের এই নতুন মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ এই নেতার অন্তর্ভুক্তিকে কুমিল্লার সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।