ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনিত ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থী ও দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গণসংযোগ পথসভাসহ নানান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে অত্যান্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন।
আজ রবিবার দুপুরে ঠাকুরগাও সদরের গড়েয়া ইউনিয়নে ইস্কন মন্দিরে শ্রীশ্রীরাধা-গোপীনাথ ও গৌরসুন্দর শ্রীবিগ্রহের ২০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীমহোৎসব ও ভক্ত সম্মেলনে সনাতন ধর্মসভায় প্রধান অতিথির বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বক্তব্যে বলেছেন, ধর্ম গৌত্র দিয়ে মানুষকে বিভক্ত করা এক ধরণের সুবিধাবাদ, বর্ণবাদ। ধর্মের কারণে বিভাজন কোনভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য মুক্তিযুদ্ধের পরেও বাংলাদেশে সাম্যবাদকে সত্যকে প্রতিষ্ঠা করতে আমাদের বারবার রক্ত দিতে হয়েছে। লড়াই করতে হয়েছে। সংগ্রাম করতে হয়েছে। আমি বলতে চাই আমরা সবাই বাংলাদেশী। এখানে যারা বসবাস করি তারা সংখ্যায় বড় বা ছোটর কোন বিষয় নাই।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন আমি ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী। কিন্তু আমার ধর্মে এবং পারিবারিক ভাবে যে শিক্ষা পেয়েছি তা হলো অন্যান্য ধর্মালম্বীদের সম্মান করা। আমি আমার শিক্ষা থেকে তাই পেয়েছি। মানবতা বড় ধর্ম।
এসসয় উপস্থিত ইস্কন ভক্তদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সবার। আপনারা নির্ভয়ে থাকবেন। আপনাদের কোন ভয় নেই। আপনাদের কোন শঙ্কা নেই। সামনে নির্বাচন। আপনাদের ভয় পেলে চলবেনা। আপনাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে বাংলাদেশটাকে এমন কারো হাতে তুলে দেয়া যাবেনা। যাদের হাতে বাংলাদেশ নিরাপদ নয়।
সম্মেলনে ইস্কন বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগের সহ-সভাপতি ও গড়েয়া ইস্কন মন্দিরের অধ্যক শ্রীমৎ ভক্তি বিনয় স্বামী মহারাজের সভাপতিত্বে সনাতন ধর্ম সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে ইস্কন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক চারুচন্দ্র দাস ব্রম্মচারী, বিশেষ আলোচক হিসেবে প্রফেসর মনতোষ কুমার দেসহ আরও অনেকে। এসময় মির্জা ফখরুর এবারের নির্বাচন তাঁর শেষ নির্বাচন হতে পারে বলে জানান এবং ভোট প্রার্থনাসহ সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।
এর আগে চেরাডাঙ্গী মাঠে নির্বাচনী গণসংযোগ পথ সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “হিন্দু ও মুসলিম সবাইকে আমি একই কথা বলছি। আপনারা গত ১৫ বছর ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি। হিন্দু ভোটাররা কোনো ভয় পাবেন না। এবার ভয় নয় সবাই নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাবেন এবং যাকে খুশি তাকে ভোট দিবেন। কিন্তু স্বাধীনতা বিরোধীদের ভোট দিবেন না। স্বাধীনতার সময় জামায়াত ছিল স্বাধীনতার বিরোধি। ”
ফখরুল আরও বলেন, “কিছু মানুষ বিভাজন তৈরি করতে চায়। কিন্তু বাংলাদেশে হিন্দু-মুসলিম একসাথেই বসবাস করে আসছে। আমরা সবাই এক।” নিজের রাজনৈতিক জীবনের ত্যাগের কথা তুলে ধরে ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামকে ইঙ্গিত করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আমি ১৯৯১ সাল থেকে আপনাদের এই এলাকায় রাজনীতি করছি। বহুবার জেলে গেছি। একবার ঢাকার বাসা থেকে পুলিশ আমাকে ধরে নিয়ে যায়, তখন আমার স্ত্রী গুরুতর অসুস্থ ছিল। ডাক্তার অপারেশনের কথা বললেও আমাকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। জেলে থাকা অবস্থাতেই আমার স্ত্রীর অপারেশন হয়। অনেক অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করেছি, কিন্তু কখনো মাথা নত করিনি। আমাদের একটাই লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার। সেই সুযোগ আমরা পেয়েছি। এখন সুযোগ আগামীর বাংলাদেশ গড়ার।”
এরও আগে ঠাকুরগাঁও শহরের পাশে বরুণাগাঁও মাদ্রাসা মাঠে নির্বাচনী গণসংযোগে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেছেন, আপনারা সবাই আমাকে ও আমার বাপ চাচাকে চিনেন। আমরা রাজনৈতিক করে সম্পদ করিনি। আমরা বাপ-দাদাদের জমি বিক্রি করে রাজনীতি করি, আপনাদের আমানতের খেয়ানত করবোনা।
তিনি দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আমার দলের কেউ আওয়ামীলীগের মতো দুর্বৃত্তায়নের সঙ্গে জড়িত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেবো। আমরা তাদের মতো করবো না। রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার ঠিক না উল্লেখ করে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলাম ১৯৯১ সালে নির্বাচন করেছিলো এবং তারা নির্বাচনে কখনো ভালো করতে পারেনি।
এছাড়া তিনি বলেন, তারেক রহমান সঠিক ভাবে দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে এগিয়ে নিতে পারবেন। বিএনপি সরকার গঠন করলে কৃষকরা সহজেই সার পাবেন, সার সংকট থাকবেনা। মা বোনরা ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য অতিতে আমরা কাজ করেছি, আগামিতেও করবো।
তিনি বলেন, আমরা এদেশে উদারপন্থি গণতন্ত্র চাই, নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারে যেতে চাই। শুধু স্লোাগান দিলে ভোট আসবেনা, সৎকাজ করে মানুষের মন জয় করতে হবে উল্লেখ করে তিনি ধানের শীর্ষে ভোট প্রার্থনা ও দোয়া কামনা করেন। এসময় জেলা বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও তিনি আরও বেশকিছু পথসভায় যোগদিয়ে ভোট প্রার্থনা ও দোয়া কামনা করেন।