জামায়াত ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যারা জাতির সঙ্গে দীর্ঘসময় বেঈমানি করেছে আগামীর নির্বাচন তাদের লাল কার্ড দেখানোর নির্বাচন।
রাজনীতির নাম ব্যাবসা নয় চাঁদাবাজি নয় এটি হচ্ছে রাজার নীতি। আগামী ১৩ তারিখ বাংলাদেশের পূর্ব আকাশে একটি নতুন সূর্যের উদয় হোক। আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই। তিস্তা এ অঞ্চলের মানুষের অহংকার, এখন তিস্তার নাম এক সাগর দুঃখ। আমরা কথা দিচ্ছি যে কোন মূল্যের বিনিময়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবো।
বুধবার ( ৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নীলফামারী ও লালমনিরহাটের যৌথ আয়োজনে তিস্তা ব্যারেজের হেলিপ্যাড মাঠে এক নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, তিস্তা নদীর পানি সারা উত্তরবঙ্গকে উর্বর করে তুলবে। আর নদী ভাঙনের কবলে হাজার হাজার পরিবারকে নিঃস্ব হতে হবেনা। তিস্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবো কারণ আমার দেশ আগে, এদেশের জনগণের স্বার্থ আগে। আমরা কারো স্বার্থে আঘাত দিবো না কিন্তু কেউ আগে আমাদের স্বার্থে আঘাত করলে সেটা মেনে নিবো না। এখন অনেক যৌক্তিক দাবি রয়েছে তাদের মধ্যে বুড়িমারি স্থলবন্দর আধুনিকায়ন করতে হবে। তিস্তা পাঁড় থেকে বাংলাদেশের উন্নয়ন শুরু হবে ইনশাআল্লাহ, যুগ যুগ ধরে এ অঞ্চলের মানুষকে বঞ্চিত করা হয়েছে। অনেকে বসন্তের কোকিলের মতো একবার দেখা দেয় আমরা বসন্তের কোকিল না দুঃখের সময়েও আছি ভালো সময়েও আছি। আমরা বিপদের সময়ে দেশ ছেড়ে চলে যাইনা, মাটি কামড়ে ধরে থাকি। আমরা দেশ বাসির বুকে আশ্রয় চাই।
ডা.শফিকুর রহমান আরও বলেন, এখন ক্ষমতা পালা বদলের সময় এসেছে আপনারা বিশ্রামে যান আমাদের সুযোগ দেন। আমরা কখনো দেশের মানুষকে ছেড়ে যাব না। আমরা ঘোষণা দিয়েছি উত্তরবঙ্গকে দেশের কৃষি ভিত্তিক রাজধানী গড়ে তুলবো। যখন কর্মসংস্থান হবে তখন সারাদেশ উন্নত হবে। এ অঞ্চলের উৎপাদিত শয্য শুধু দেশের চাহিদা নয় বিদেশে রপ্তানি করাও যাবে। আল্লাহ যদি আমাদের এ দেশ নেওয়ার সুযোগ দেন। আমার যদি আপনাদের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে পারি। দেশে যারা আছে সবাইকে নিয়ে আমরা বাংলাদেশ গড়তে চাই। সকল ধর্ম বর্ণের মানুষকে নিয়ে আমরা এগিয়ে যাব।
তিনি নারীদের উদ্দেশ্য বলেন, বর্তমানে মা বোনেরা লাঞ্ছিত হচ্ছে আমরা বলে রাখি প্রয়োজনে জীবন দিব তবুও মা বোনের ইজ্জত কাউকে কেড়ে নিতে দিব না। এদেশের ৯ কোটি নারী আমাদের মা তাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে আমরা দেখি। তারা শিক্ষিত হবেন দেশ গড়তে দায়িত্ব নিবেন। তারা কর্মস্থানে কাজ করবেন ইনশাআল্লাহ। তারা সব জায়গায় থাকবে নিরাপদ ভাবে কাজ করবে মর্যাদার সঙ্গে। আমরা নারী জাতির জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করবো ইনশাআল্লাহ।
গণভোট সম্পর্কে বলেন, আমাদের দুটি ভোট একটি হচ্ছে গণভোট সেখানে হ্যাঁ মানে আজাদি আর না মানে গোলামি। আমরা সবাই ১২ তারিখের প্রথম ভোট হ্যাঁ তে দিব ইনশাআল্লাহ। আমরা সবাইকে হ্যাঁ তে ভোট দেওয়ার জন্য বলবো। একটি দল না ভোট বলেছিলো যখন দেখে জনস্রোতে ভেসে যাবে তখন হ্যাঁ তে ভোট দিতে বলেছে আমরা তাদের প্রতি জানাই মোবারক বাদ।
এসময়ে লালমনিরহাট জেলা আমির অ্যাডভোকেট আবু তাহেরের সভাপতিত্বে জামায়াত ইসলামীর আমীর ডা.শফিকুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এসময়ে কেন্দ্রীয় ও জেলা উপজেলার বিভিন্ন নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্য শেষে জামায়াত আমীর নীলফামারীর চারটি আসন ও লালমনিরহাটের তিনটি আসনের প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন।