এ যেন এক নির্মম সময়ের গল্প। যে মানুষটি একটা সময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে সর্বদা ধরতেন ন্যায়ের কলম আর হয়ে উঠতেন শোষিত মানুষের কণ্ঠস্বর।
আজ সেই মানুষটিই নিঃশব্দে লড়ছেন নিজের জীবনের জন্য। দক্ষিণ খুলনার পাইকগাছা উপজেলার সকলের পরিচিত এক কলম সৈনিক সাংবাদিক ফসিয়ার রহমান বর্তমানে খুলনার আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি বিছানায় শুয়ে প্রতিনিয়ত মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। তার পায়ে বাসা বেঁধেছে মরণব্যাধি গ্যাংগ্রিন রোগ, যার ফলে প্রতিদিনই একটু একটু করে নিভে যাচ্ছে তার বেঁচে থাকার আলো। হাসপাতালের নির্জন কক্ষে তার নীরব আর্তনাদ যেন দেয়ালে দেয়ালে প্রতিধ্বনিত হয়।
এই কান্না কোন শব্দের নয়- এ এক অসহায়ত্বের, অবহেলার, আর চরম অর্থসংকটের কান্না।
যে হাত একসময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলম ধরতো, সেই হাত আজ অসাড় হয়ে পড়ে আছে বিছানার এক কোণে। যন্ত্রণা যখন অসহনীয় হয়ে ওঠে, তখন তার নিঃশ্বাসে ভেসে আসে শুধু বাঁচার আকুতি-
কিন্তু সেই আকুতির জবাব দেওয়ার মতো সামর্থ্য নেই তার পরিবারের!
সাংবাদিক ফসিয়ার রহমান, যিনি পাইকগাছার একজন কলম যোদ্ধা, সাংবাদিকতার মাধ্যমে যিনি দীর্ঘদিন ধরে মানুষের পাশে থেকেছেন। মফস্বলের ধুলোমাখা পথ থেকে তুলে এনেছেন মানুষের দুঃখ-দুর্দশার গল্প। অথচ আজ তার নিজের গল্প শোনার কেউ নেই। উন্নত চিকিৎসার আশায় শেষ সম্বলটুকু বিক্রি করে পাড়ি জমিয়েছিলেন ভারতে। কিন্তু চিকিৎসার ব্যয় এতটাই বিপুল ছিলো যে, মাঝপথেই থেমে যায় সেই লড়াই। বুকভরা বেদনা আর অপূর্ণ স্বপ্ন নিয়ে তাকে ফিরে আসতে হয় দেশে। আর সেই ফিরে আসা যেন ছিল আরও বড় এক অন্ধকারের দিকে পতন।
এখন প্রতিটিদিন তার জন্য এক একটি দুঃসহ অধ্যায়। তীব্র ব্যথায় কাতরানো সাংবাদিক ফসিয়ার রহমান কখনো চোখ বন্ধ করে সহ্য করার চেষ্টা করেন, আবার কখনো অস্ফুটে বলে ওঠেন—
“আমি কি আর লিখতে পারবো?” এই প্রশ্ন যেন শুধু তার নয়, আমাদের সমাজের প্রতিও এক কঠিন প্রশ্ন”
আমরা কি সত্যিই একজন কলম যোদ্ধাকে এভাবে হারিয়ে যেতে দেবো?
তিনি শুধু একজন সাংবাদিক নন-
তিনি একজন বাবা, যার সন্তানেরা অপেক্ষা করে আছে বাবার ফিরে আসার। তিনি একজন স্বামী, যার অনুপস্থিতিতে ভেঙে পড়েছে একটি পরিবার। তিনি এই সমাজেরই একজন নিবেদিত প্রাণ মানুষ, যিনি নিজের স্বার্থের চেয়ে মানুষের কষ্টকে বড় করে দেখেছেন সবসময়।
মফস্বল সাংবাদিকতার পথ কখনোই সহজ ছিল না তার জন্য। দিনের পর দিন তথ্য সংগ্রহ, নানা প্রতিবন্ধকতা, আর্থিক অনিশ্চয়তা, সবকিছুর মাঝেই লড়াই করে সংবাদ পাঠাতেন পত্রিকার দপ্তরে। অনেক সময় একটি সংবাদ প্রকাশের পেছনে লেগে যেত দিন-রাতের পরিশ্রম, মফস্বল সাংবাদিকতাই ছিল না কোন সম্মানী । তবুও থেমে যাননি। কারণ তিনি জানতেন, তার কলমই পারে কোনো অবহেলিত মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠতে।
আজ সময় এসেছে, সেই মানুষটির পাশে দাঁড়ানোর। আমাদের সামান্য সহায়তাই হতে পারে তার জীবনের নতুন আশার আলো। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী বাংলাদেশি, মানবিক সংগঠন, সবার প্রতি আহ্বান, আসুন আমরা সবাই মিলে বাঁচিয়ে তুলি এক সাহসী কলম যোদ্ধাকে।
সাংবাদিক ফসিয়ার রহমানের চিকিৎসার জন্য সরাসরি যোগাযোগ বা বিকাশ (পার্সোনাল) করা যাবে এই নম্বরে: ০১৯১৪-১৮২৭৪৩
আপনার সামান্যতম সহানুভূতি হয়তো বাঁচিয়ে দিতে পারে একটি জীবন, একটি পরিবার এবং একজন নির্ভীক কলম যোদ্ধাকে।