শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৩:৩১ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
কসবায় দুই গ্রামবাসীর সং’ঘ’র্ষ, আহত ৬০ এক যুগের জলাবদ্ধতা দূর করতে শ্রীপুরে রাস্তা-ড্রেন নির্মাণ শুরু উলিপুরে বৃক্ষরোপন কর্মসূচীর উদ্বোধন নদীভাঙনের ভয়ে কেউ আর দিন কাটাবে না: গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী মউক চেয়ারম্যান মোতাহার তালুকদারকে সংসদ সদস্যদের ফুলেল শুভেচ্ছা ​ফুলবাড়িয়ায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন এমপি কামরুল হাসান মিলন ‎হঠাৎ দুর্গাপুরে পানের দামে ধস: চিন্তায় পড়েছেন পান চাষীরা কালকিনি উপজেলায় ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে আগারগাঁওয়ে ‘রান ফর আর্থ’, পরিবেশ সুরক্ষায় তরুণদের ব্যতিক্রমী আয়োজন দেড় লাখ টাকার টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন বজলুর রহমান স্পোর্টিং ক্লাব সাধারণ মানুষের স্বার্থে সময়োপযোগী এই বাজেট: সরোয়ার আলমগীর এমপি ফটিকছড়িতে হালদা নদীর উপর “পাঁচ পুকুরিয়া সেতু “এখন দৃশ্যমান আইইবির জব ফেয়ার ও প্রজেক্ট প্রতিযোগিতা চাকরি, দক্ষতা ও শিল্পের চাহিদার সেতুবন্ধনে নতুন উদ্যোগ অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন ও 3R কৌশল : নতুন বাজেটের রাজনৈতিক অর্থনীতি দর্শন মতলব উত্তর বাহাদুরপুর আধুনিক কবরস্থান নির্মাণের উদ্বোধন শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবনমান উন্নয়নে জনবান্ধব বাজেট: ড. জালাল উদ্দিন এমপি স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতৃত্বে নতুন প্রত্যাশা, আলোচনায় নাসিমা আক্তার সিমু জনমনে ভুল বুঝাবুঝি তৈরী হয়েছে, কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নেই এনবিআর চেয়ারম্যান সালথা প্রেসক্লাবের টিনশেট ভবনের উদ্বোধণ করলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডিমলায় স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনীর উদ্বোধন উন্নয়নের ক্ষেত্রে চীন আমাদের সমর্থন দিচ্ছ : ঠাকুরগাঁওয়ে এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ডিবি পুলিশের অভিযানে বিপুল পরিমাণ সিরাপ জব্দ, আটক ২ শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান,প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনমুখী শিক্ষায় আগ্রহী করতে হবে : এমপি আবুল কালাম লোহাগাড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সভা ও প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত আনোয়ারায় জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ​ফুলবাড়িয়ায় ছাত্রদলের আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ আগামী ৫ বছরে শিক্ষাখাতে জিডিপির বরাদ্দ ৫% করার চিন্তা করছে সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহজাদপুরে ৪টি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সাড়ে ৯ লাখ টাকা বকেয়া থাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন পাইকগাছায় স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত সালথায় স্টার্টআপ বিজ্ঞান প্রকল্প এবং উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শন কর্মসূচির উদ্বোধন

সুনামগঞ্জের হাওরে ধান ঘরে তোলার লড়াই: প্রতিকূল প্রকৃতি আর ন্যায্যমূল্যের অভাবে দিশেহারা কৃষক

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৪৫ অপরাহ্ন

​প্রকৃতির বৈরিতা আর ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার দ্বিমুখী চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের বোরো চাষিরা।

একদিকে পাহাড়ি ঢল ও আগাম বন্যার আতঙ্ক, অন্যদিকে উৎপাদন খরচের তুলনায় ধানের অস্বাভাবিক কম দাম সব মিলিয়ে স্বপ্নভঙ্গের কান্নায় ভাসছেন জেলার লক্ষাধিক কৃষক।

চলতি মৌসুমে সুনামগঞ্জের ১৩৭টি হাওরে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। কিন্তু ধান কাটার ভরা মৌসুমে কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। শাল্লা উপজেলার চাকুয়া গ্রামের কৃষক কৃপেশ দাস জানান, প্রতি কিয়ার জমিতে উৎপাদন খরচ বাদেও যেভাবে সার, বীজ, ডিজেল ও শ্রমিকের দাম বেড়েছে, তাতে মণপ্রতি খরচ পড়ছে প্রায় ১,০০০ টাকা। অথচ বাজারে ভেজা ধান বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ৬৩০ থেকে ৬৭০ টাকা দরে। গত বছরের তুলনায় মণপ্রতি অন্তত ২০০ টাকা কম পাওয়ায় কৃষকরা বলছেন, “ধান চাষ এখন অভিশাপে পরিণত হয়েছে।

বৈশাখ শুরুর পর থেকে অবিরাম বৃষ্টি আর রোদের অভাব ধান শুকানোর খলাগুলোকেও ভিজিয়ে রেখেছে। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সতর্কতা বলছে, পাহাড়ি ঢলে সুরমা, কুশিয়ারা ও বৌলাইসহ নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। যে কোনো সময় আগাম বন্যার কবলে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা নিচু এলাকার কৃষকদের দ্রুত ধান কেটে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ধান শুকাতে না পারায় বাধ্য হয়েই অনেকে কাঁচা ধান পানির দামে পাইকারদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছেন।

হাওরের কৃষকদের দাবি, তাদের হাতের নাগালে অটোমেটিক রাইস মিল নেই। জেলায় যে কয়েকটি মিল রয়েছে, সেগুলোও হাওর থেকে দূরে। এছাড়া মিল মালিকরা সরকারি চাল সরবরাহের চুক্তিতে ব্যস্ত থাকায় সাধারণ কৃষকের ভেজা ধান প্রক্রিয়া করার সুযোগ পাচ্ছেন না। ফলে কোনো প্রক্রিয়াজাতকরণ ছাড়াই কৃষকরা মহাজনদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়ছেন।

ধানের এই সংকটের বিষয়টি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেছেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল। তিনি কৃষকদের উৎপাদন খরচের কথা বিবেচনায় নিয়ে সরকারিভাবে ধানের ক্রয়মূল্য মণপ্রতি ১৫০০ টাকা নির্ধারণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

​অন্যদিকে, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস জানিয়েছে, তারা প্রতি কেজি ধানের মূল্য ৩৭ টাকা (মণপ্রতি ১৪৮০ টাকা) নির্ধারণের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন। এ বিষয়ে বুধবার মন্ত্রণালয়ে একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানিয়েছেন, ফসল রক্ষায় জেলাজুড়ে বর্তমানে ৬০২টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার ও ১৪৬টি রিপার মেশিন দিয়ে দ্রুত ধান কাটার চেষ্টা চলছে।

হাওরের ১৪ লাখ মেট্রিক টন ধান এখন সোনালী স্বপ্ন নয়, বরং অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষক আব্দুস ছাত্তারের ভাষায়, “এমন দুর্যোগ ও দুর্ভোগের বৈশাখ গত কয়েক বছরে দেখিনি।” এখন কেবল সরকারি সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে আছেন সুনামগঞ্জের প্রান্তিক কৃষকরা—সরকার কি তবে সময়মতো ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করে তাদের রক্ষা করবে?


এই বিভাগের আরো খবর