ছেলের খরচ হিসেবে টাকা পাঠানোকে কেন্দ্র করে জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে শারমিন আক্তার (২৬) নামে এক গৃহবধূর ওপর অমানবিক ও পাশবিক নির্যাতন চালানোর।
অভিযোগ উঠেছে তার মাদকাসক্ত স্বামী চাঁন মিয়ার বিরুদ্ধে। নির্যাতনের একপর্যায়ে পাষণ্ড স্বামী ওই গৃহবধূর শরীরে জ্বলন্ত বিড়ির ছ্যাঁকা দিয়ে ঝলসে দেয়। বর্তমানে তিনি সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মঙ্গলবার (২৮এপ্রিল) উপজেলার ইস্পাহানী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত চাঁন মিয়া ওই এলাকার মৃত খায়ের আলীর ছেলে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও পারিবারিক সূত্র জানায়, কয়েক বছর আগে সরিষাবাড়ী উপজেলার কামরাবাদ এলাকার সাহেব আকন্দের মেয়ে শারমিন আক্তারের সঙ্গে চাঁন মিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর শারমিন জানতে পারেন তার স্বামী চরম মাদকাসক্ত। তাদের সংসারে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। স্বামীর মাদকাসক্তি ও অভাবের তাড়নায় শারমিন একটি ছোট চাকরিতে যোগ দেন এবং নিরাপত্তার খাতিরে ছেলেকে তার নানার বাড়িতে রাখেন। ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, ঘটনার দিন শারমিন তার ছেলের খরচের জন্য ১ হাজার টাকা পাঠান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন স্বামী চাঁন মিয়া। তার দাবি ছিল, উপার্জনের সব টাকাই তাকে দিতে হবে। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে চাঁন মিয়া শারমিনের ওপর হামলা চালায় শারমিনকে নিচে ফেলে বুকের ওপর চড়ে বসে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জ্বলন্ত বিড়ির ছ্যাঁকা দিয়ে নির্মম নির্যাতন চালান।
শারমিনের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন জানান, “গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
বর্তমানে অভিযুক্ত চাঁন মিয়া পলাতক থাকায় তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।