অপহণের এক মাস পার হলে অপহৃতা তরুণীকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। থানা পুলিশে দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো সহযোগীতা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন অপহৃতার পরিবারের সদস্যরা।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুর আড়াইটার দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানাধীন জাফরাবাদ এলাকার ইত্যাদির মোড় থেকে সুমাইয়া (১৪) নামের এক তরুণীকে অপহরণ করা হয়। এ ব্যাপারে অপহৃতার বাবা আবদুর রশিদ বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেছেন। মামলায় আসামী করা হয় নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর থানাধীন চরপাড়া গ্রামের মান্নানের বখাটে ছেলে মো. জাহাঙ্গীর (২২) ও অজ্ঞাত ২-৩ জনকে।
অপহৃতার মা মিনারা বলেন, আমি ময়মনসিংহের ধোবাউড়া থানার রাউতি গ্রামের আবদুর রশিদের স্ত্রী। আমার স্বামী গ্রামে কৃষি কাজ করেন। আমি তিন মেয়েকে নিয়ে মোহাম্মদপুর থানাধীন পুলপাড় বটতলা আউয়ালের বাড়িতে ভাড়া থাকি। আমি বাসা বাড়িতে বুয়ার কাজ করি। আর আমার মেয়ে সুমাইয়া (১৪) লালমাটিয়া এলাকার একটি বাসাতে কাজ করে। ১৪ সেপ্টেম্বর প্রতিদিনের ন্যায় কাজ করে বাসায় ফেরার পথে নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর থানাধীন চরপাড়া গ্রামের মান্নানের বখাটে ছেলে জাহাঙ্গীর তার সহযোগীদের নিয়ে সুমাইয়াকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। সেও মোহাম্মদপুর থানাধীন পুলপাড় বটতলা বসবাস করতো। এর আগে বখাটে জাহাঙ্গীর আমার মেয়েকে বিভিন্ন সময় প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে রাস্তায় উত্যক্ত করতো। বখাটে জাহাঙ্গীরের প্রস্তাবে রাজী না হলে তুলে নিয়ে যাবে বলে হুমকি দিতো। এই বিষয়টি জাহাঙ্গীরের পরিবারকে একাধিকবার জানালেও কোনো কর্ণপাত করতো না। উল্টো ভয়ভীতি দেখাতো। তুলে নিয়ে যাওয়ার ভয় দেখাতো। গত ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ৯ টায় সুমাইয়া কাজ করার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়। প্রতিদিনই বিকাল ৩টার মধ্যে বাসায় ফিরে সুমাইয়া। কিন্তু ওইদিন যখন দেখছি বিকাল ৪টা বেজে গেলেও বাসায় ফেরেনি। তখন খোঁজাখুজি তাকে আর পাওয়া যায়নি।
অপহৃতার মা মনিরা আরো বলেন, এই বিষয়টি থানায় জানালে আসামীর লোকজন বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ গুরুত্ব দিচ্ছে না। গত ৫ অক্টোবর মামলা রেকর্ড করে পুলিশ। লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও আসামিদের গ্রেফতার ও মেয়েকে উদ্ধারের কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না পুলিশ।
মাওলানা মো. জামাল উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, অপহৃতা সুমাইয়া আমার ফুফাতো বোন। আমি ধোবাউড়া থানার রাউতি গ্রামে থাকি। ঘটনার খবর পেয়ে আমি ঢাকায় আসি। বিষয়টি জেনেশুনে গত ১৮ সেপ্টেম্বর থানায় লিখিত অভিযোগ করি। থানা থেকে বলা হয় এসআই চয়ন সাহার সঙ্গে যোগাযোগ করতে। ডিউটি অফিসারের কথা মত যোগাযোগ রাখি। এরপর ঘটনার তদন্ত করে পুলিশ সত্যতা পায়। গত ২০ সেপ্টেম্বর মামলার আসামীর বাবাকে থানায় ধরে আনে। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এসআই চয়ন সাহার কাছে আসামীদের খবর জানতে চাইলে তিনি মামলা রেকর্ড না করে আমাকে আসামীদের সঙ্গে মিমাংসা করার পরামর্শ দেন। একবার বলেন আপোস করতে, আরেকবার বলেন মেয়েকে আমাদের খুঁজে বের করতে। উল্টো আমাকেও মামলার ভয় দেখানো হয়। পরে বিষয়টি সিআইডির এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানাই। তিনি থানার ওসিকে ফোন করলে অভিযোগ দিতে বলেন আমাকে। ওই সময় আমি বলি, গত ১৮ সেপ্টেম্বর লিখিত অভিযোগ করেছি। অভিযোগটি কার কাছে আছে জানতে চাইলে আমি ওসিকে বলি, এসআই চয়ন সাহার কাছে। পরে অভিযোগপত্র খুজে না পাইলে আবার লিখিত অভিযোগ করতে বললেন। গত ৫ অক্টোবর আবার লিখিত অভিযোগ করলে মামলা নতিভুক্ত করে। আমরা আসামীর সহযোগীদের নম্বর দিলেও আমাদের খুজে বের করতে বলে পুলিশ। এখন অপহৃতা সুমাইয়ার পরিবার অসহায় হয়ে পড়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. সাদেকুল ইসলাম বলেন, মামলার তদন্ত চলছে। অপহৃত মেয়েকে উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আসামীদের মোবাইল ট্র্যাকিং করেও পাচ্ছি না। অপহরণকারীরা ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন করছে। কোনো ক্লু পাচ্ছি না। মোবাইল ট্র্যাকিংয়ে কখনো গাজীপুর, কখনো ভালুকা লোকেশন দেখায়। তবে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।