শিল্প হলো মানুষের আত্মার নীরব বয়ান। সেই বয়ানকে জীবন্ত করে তুলতে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ এর আর্টস ক্লাব আয়োজন করেছে বিশেষ শিল্প প্রদর্শনী “চিত্রে চিরন্তন”। ৩১ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এ শিল্প প্রদর্শনী চলবে ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি ভবনের ভূমিতল এখন যেন এক শিল্পালয়, যেখানে শিক্ষার্থীদের রঙতুলি, রেখা আর কল্পনার মেলবন্ধনে গড়ে উঠেছে অনন্য ভুবন।
প্রদর্শনীতে শিক্ষার্থীদের ক্যানভাসে ফুটে উঠেছে নানা বিষয় প্রকৃতির শান্ত সৌন্দর্য, সমাজের টানাপোড়েন, সময়ের প্রতিচ্ছবি, আর জীবনের গভীর অনুভূতি। আয়োজকদের মতে, প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য কেবল শিল্প প্রদর্শন নয়; বরং তরুণ শিল্পীদের অন্তর্নিহিত সৃজনশক্তিকে জাগ্রত করা ও তাদের স্বপ্নকে বৃহত্তর সমাজে পৌঁছে দেওয়া।
বিশ্ববিদ্যালয়টির আর্টস ক্লাবের সভাপতি কিংশুক বিশ্বাস বলেন, “শিল্প কেবল দৃশ্যমান সৌন্দর্য নয়, এটি আত্মার স্পর্শ। শিক্ষার্থীরা যে আবেগ ও কল্পনাকে রঙে ফুটিয়ে তুলছে, তা শুধু শিল্প নয়, বরং এক অমর স্মৃতি হয়ে থাকবে।”
প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী ক্লাবের সদস্য সাবিহা ভূঁইয়া প্রমি বলেন, “আমার কাছে শিল্প মানে মুক্তি—মনের অগণিত অজানা কথা রঙে বলার এক যাত্রা। এই প্রদর্শনী আমাকে মনে করিয়েছে, আমরা শিল্পীরা শুধু আঁকি না; আমরা সময়কে ধরি, আবেগকে অমর করে রাখি।”
শুধু শিল্পী নয়, দর্শনার্থীরাও প্রদর্শনীতে সমান উৎসাহে ভিড় জমাচ্ছেন। অনেক শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং শিল্পপ্রেমী প্রতিটি ছবির সামনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘক্ষণ মগ্ন হয়ে পড়ছেন। দর্শনার্থীদের কারও কারও মতে, শিক্ষার্থীদের শিল্পকর্মে যে স্বতঃস্ফূর্ততা ও ভাবনা ফুটে উঠেছে, তা পেশাদার শিল্পীদের কাজের সঙ্গে তুলনীয়। কেউ কেউ আবার জানিয়েছেন, “এই আয়োজন তরুণদের শিল্পচর্চাকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। এখানে এসে আমরা যেমন নতুন শিল্প দেখছি, তেমনি নতুন প্রজন্মের স্বপ্নও অনুভব করতে পারছি।”
প্রদর্শনীর বিশেষ আকর্ষণ ছিল বাংলার ঐতিহ্যবাহী বায়োস্কোপ। আয়োজকরা পুরোনো দিনের নস্টালজিয়াকে ফিরিয়ে আনতে বায়োস্কোপ নির্মাণ করেছেন এবং এর সাথে বাজানো হয়েছে জনপ্রিয় গান “তোমার বাড়ির রংয়ের মেলায় দেখেছিলাম বায়স্কোপ”। এই আয়োজন দর্শকদের যেন ফিরিয়ে নিয়ে যায় বাংলার সোনালী অতীতে, যেখানে লোকজ শিল্প ও বিনোদনের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল গ্রামীণ জীবনের আনন্দঘন স্মৃতি। শিল্পকর্মের পাশাপাশি বায়োস্কোপের সেই প্রাণবন্ত পরিবেশ দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করেছে, আর তরুণ প্রজন্মকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে আমাদের ঐতিহ্যের সাথে।
প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত। আয়োজকরা আশা করছেন, দর্শনার্থীদের এই আগ্রহ ও উপস্থিতি তরুণ শিল্পীদের আরও অনুপ্রাণিত করবে এবং ভবিষ্যতে শিল্পচর্চাকে করবে আরও সমৃদ্ধ।