সরকার নির্ধারিত সময় অনুযায়ী দেশের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা থাকার সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট। কিন্তু কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার রোয়াচালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দিনের পর দিন সেই নিয়মকে পায়ের নিচে চাপা দিয়ে চলছে “মন চাইলে ক্লাস, না চাইলে ছুটি” সংস্কৃতি।
আজ বুধবার (২৩ জুলাই) বিকেল ৩টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয় ভবন এবং সকল গেইটে ঝুলছে বড় তালা। কোথাও কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থীর ছায়াও নেই। অথচ এখনো এক ঘণ্টারও বেশি সময় স্কুল চলার কথা। শিক্ষার্থীরা ক্লাস না করে স্কুলের সামনে খেলাধুলা করছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী চতুর্থ শ্রেণির আব্দুর রহমান, পঞ্চম শ্রেণির ইমরান এবং তৃতীয় শ্রেণির সামিয়া জানায়, “প্রায় প্রতিদিনই ২টা বা ৩টার মধ্যে আমাদের ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়।”
এমন চিত্র প্রতিদিনের রুটিনে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ অভিভাবক ও এলাকাবাসীর। স্থানীয় বাসিন্দা মো. ফয়সাল, হাসান, জালাল, সেলিম ও ডাক্তার মহিউদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই স্কুলে ৪টা পর্যন্ত ক্লাস হয়, এমন দিন আমরা দেখিনি। শিক্ষকরা নিজেদের মতো করে আগেভাগেই তালা মেরে বেরিয়ে পড়েন।” অভিভাবকরা আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে নিয়ম ভেঙে এভাবে স্কুল পরিচালিত হওয়ায় শিক্ষার পরিবেশ ধ্বংস হয়ে গেছে। ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কেউ চিন্তিত নয়। অনেকেই বাধ্য হয়ে সন্তানকে অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে নিচ্ছেন।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাজমা আক্তারের কাছে মোবাইলে জানতে চাইলে তিনি দায়িত্ব এড়িয়ে বলেন, “আমি ছুটিতে আছি। সহকারী শিক্ষক জানিয়েছেন, আজ ৪টা ১০ মিনিটে ছুটি হয়েছে।”
এ বিষয়ে মুরাদনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক কঠোর ভাষায় জানান, “নির্ধারিত সময়ের আগে স্কুল ছুটি দিয়ে চলে যাওয়া সম্পূর্ণ অনিয়ম ও বিধি লঙ্ঘন। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষককে শোকজ করা হবে এবং তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রশ্ন রয়ে যায়: শিক্ষা নিয়ে এমন ছিনিমিনি খেলায় জবাবদিহি কোথায়? অভিভাবক ও সচেতন মহল দাবি তুলেছেন, সংশ্লিষ্টদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় না আনলে এ ধরণের উদাসীনতা অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও ছড়িয়ে পড়বে।