কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দেশীয় পদ্ধতিতে প্রতি বছরের মত এবারও সিরাজগঞ্জের বেশ কয়েকটি উপজেলায় বিভিন্ন খামারে বিপুল পরিমাণ ষাঁড় মোটাতাজা করা হয়েছে। প্রাকৃতিক উপায়ে কাঁচা ঘাস, খড়, ভুষি, ডালের গুঁড়া, ভাত, খৈল সহ বিভিন্ন দানাদার খাদ্য খাইয়ে ষাঁড় মোটাতাজা করছেন গো-খামারিরা। আর এসকল ষাঁড় মোটাতাজা করতে খামারিদের প্রশিক্ষণ সহ বিভিন্ন বিষয়ে সার্বিক ভাবে সহযোগিতা করছে জেলা প্রাণি সম্পদ বিভাগ।
প্রতি দিন ভোর থেকে শুরু করে সারাদিন বিভিন্ন ভাবে পরিচর্যা করে এক একটি গরুকে পরম যত্নে লালন পালন করছেন প্রান্তিক খামারিরা। প্রতি বছরই ঈদ-উল-আযহাকে সামনে রেখে জেলার সদর, বেলকুচি, শাহজাদপুর, উল্লাপাড়াসহ বেশ কয়েকটি উপজেলাতে ব্যাপক ভাবে বিভিন্ন জাতের ষাঁড়, মহিষ, ভেড়া, গাড়ল সহ বিদেশী জাতের ছাগল মোটাতাজা করণ করা হয়। এবছরও প্রাকৃতিক উপায়ে সবুজ ঘাস, খড়, বিভিন্ন প্রকারের ভূষি, ভাত, খৈলসহ অন্যান্য দানাদার খাদ্য খাইয়ে ষাঁড় মোটাতাজা করেছেন বড় ও ছোট প্রান্তিক খামারীরা। আর এসকল গোবাধি পশু সিরাজগঞ্জ জেলার চাহিদা মিটিয়ে চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জায়গায়। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে খামারিরা লসে পড়ে বন্ধ করে দিয়েছে অনেক খামার বলে জানান খামারিরা।
গো-খামারি আব্দুস সালাম বলেন, গো খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় গরুর দাম নিয়ে চিন্তিত রয়েছি, তবে ভারত থেকে গরু না আসলে আমরা অনেকটাই লাভবান হতে পারব।
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা: এ কে এম আনোয়ারুল হক বলেন, ষাঁড় সহ বিভিন্ন ধরনের গোবাদি পশু মোটাতাজা করতে খামারিদের কে প্রশিক্ষণ সহ বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এবছর জেলায় ১ লক্ষ ৮৫ হাজার গরু, ৩ লক্ষ ৯৯ হাজার ছাগল, ৪ হাজার মহিষ ও ৬৭ হাজার ভেড়াসহ প্রায় সাড়ে ৬ লক্ষাধিক পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। যার বাজার মূল্য প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি।