এলসি জটিলতায় এবং বিশ্ব বাজারে দাম বৃদ্ধির প্রভাবে পণ্য আমদানি কমলেও দেশে বাণিজ্য ঘাটতি আরও বেড়েছে। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি যেখানে ছিল ১ হাজার ৩৩৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার।
এক মাসের ব্যবধানে ৮ মাসের হিসাবে (জুলাই- ফেব্রুয়ারি) তা ৫০ কোটি ডলার বেড়ে ১ হাজার ৩৮২ কোটি ৮০ লাখ ডলার হয়েছে। পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে যাওয়ায় ঋণাত্মক হয়ে পড়েছে চলতি হিসাবের ভারসাম্য। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাবে আলোচ্য ৮ মাসে চলতি হিসাবের ভারসাম্য হয়েছে ঋণাত্মক প্রায় ৪৩৯ কোটি ডলার। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আমদানি ব্যয় কমাতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এতে কমে গেছে আমদানি ব্যয়। কিন্তু এর পরও কাক্সিক্ষত হারে রফতানি আয় না হওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, আমদানি ব্যয় কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিলাসজাত পণ্যের আমদানিতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। ৩০ লাখ ডলারের পণ্য আমদানিতে তদারকি করা হচ্ছে। শতভাগ মার্জিন দিয়ে পণ্য আমদানিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকিং খাতে ডলার সংকটের কারণে পণ্য আমদানির জন্য ব্যবসায়ীরা কাক্সিক্ষত হারে পণ্য আমদানি করতে পারছে না। সবমিলেই সামগ্রিক আমদানি কমে গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, ৮ মাসে পণ্য আমদানির প্রবৃদ্ধি হয়েছে ঋণাত্মক প্রায় সাড়ে ১০ শতাংশ, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল প্রায় ৪০ শতাংশ। সামগ্রিক আমদানি কমলেও কাক্সিক্ষত হারে রফতানি আয় হচ্ছে না। এতেই বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে যাচ্ছে।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে দেশে মোট ৪ হাজার ৮৭৯ কোটি ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করা হয়েছে। যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে ৫ হাজার ৪৩৭ কোটি ডলারের বিভিন্ন পণ্য আমদানি করা হয়েছিল। সেই হিসাবে ৮ মাসে আমদানির প্রবৃদ্ধি হয়েছে ঋণাত্মক ১০ দশমিক ২৭ শতাংশ। আর আমদানির বিপরীতে চলতি অর্থবছরের ৮ মাসে রফতানি হয়েছে ৩ হাজার ৪৯৬ কোটি ডলারের পণ্য। যেখানে আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩ হাজার ১৯৪ কোটি ডলার। সেই হিসাবে রফতানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৯ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এর ফলে বাণিজ্য ঘাটতি হয়েছে ১ হাজার ৩৮২ কোটি ৮০ লাখ ডলার।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আমদানি ব্যয় আর কমানো সম্ভব হবে না। কারণ শিল্পের কাঁচামাল আমদানি করতে না পারলে উৎপাদনই ব্যাহত হবে। এ কারণে এ বাণিজ্য ঘাটতি আরও বেড়ে যাবে। শুধু বাণিজ্য ঘাটতিই বাড়ছে না, সেবা আয়ে ঘাটতিও বেড়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে যাওয়ায় চলতি হিসাবের ভারসাম্যও ঋণাত্মক হয়ে গেছে। কারণ আমদানির তুলনায় রফতানি আয় কমে গেলে চলতি হিসাবের ভারসাম্য ঋণাত্মক হয়ে যায়। চলতি হিসাবের ভারসাম্য ঋণাত্মক হওয়ায় বিদেশি বিনিয়োগও কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে রফতানি পণ্যের পরিধি বাড়ানো এবং নতুন বাজার বের করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে বলে অর্থনীতিবিদরা জানিয়েছেন।