সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নে পূর্ব শত্রুতার জেরে একটি বসতবাড়ির খড়ের ঘরে অগ্নিসংযোগ ও সম্পদ ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৪ মার্চ) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের তাজনগর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এতে ভুক্তভোগী পরিবারের প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তাজনগর গ্রামের বাসিন্দা আইয়ূবুর রহমান দধই মিয়া গ্রাম্য বিবাদ এড়াতে দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে সুনামগঞ্জ শহরে বসবাস করছেন। বুধবার রাতে তার গ্রামের বাড়িটি জনশূন্য থাকার সুযোগে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা খড়ের ভোলায় আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়লে তারাবিহ নামাজ শেষে ফেরা স্থানীয় মুসুল্লি ও গ্রামবাসী দ্রুত চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ফলে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড থেকে রক্ষা পায় আশপাশের বসতবাড়িগুলো।
ভুক্তভোগী আইয়ূবুর রহমানের স্ত্রী সীমা আক্তার জানান, পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। আগুনে খড়ের ঘর ও মজুদ করা খড় পুড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বাড়ির একটি গভীর নলকূপ (ডীপ কল) ভাঙচুর করা হয়েছে। সব মিলিয়ে তাদের প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
সীমা আক্তার আরও অভিযোগ করেন, “আমাদের শত্রুর অভাব নেই। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি পাশের বাড়ির একটি পক্ষ আমাদের নামে ৭ ধারায় মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। আমাদের প্রবল সন্দেহ, তারাই প্রতিশোধ নিতে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটিয়েছে।”
গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা আম্বর আলী এই ঘটনাকে অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক অভিহিত করে অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার বিষয়ে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নুরুল আমিন বলেন, “অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়েছি। আজ (বৃহস্পতিবার) আমি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাব এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখব।”
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রতন শেখ জানান, “বিষয়টি মৌখিকভাবে শুনলেও এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে পুলিশ পাঠিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে, ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, থানায় প্রাথমিক যোগাযোগ করলে তাদের আদালতে মামলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তারা আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামের সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।