নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২৫ নং ওয়ার্ডের দেউলী চৌরাপাড়া এলাকায় শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা এবং এলাকাবাসীর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলারএকমাত্র উন্মুক্ত স্থানটি আবারও দেওয়াল নির্মাণ করে দখলে নেওয়ার পাঁয়তারা করছে বিআইডব্লিউটিসি।
স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালামের নির্দেশনা উপেক্ষা করে দেওয়ান নির্মাণে অপচেষ্টায় হতবাক এলাকার সাধারণ মানুষ। এ নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে দেউলী চৌরাপাড়া এলাকার এই খালি জায়গাটি স্থানীয় শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা এবং সাধারণ মানুষের প্রাতঃভ্রমণ ও মুক্ত বাতাস সেবনের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। পাশেই শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে মনোরম ওয়াকওয়ে নির্মাণ করেছে বিআইডব্লিউটিএ। কিন্তু সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ সরকারের রোপন করা ৩শ’ গাছ কেটে নদীর জায়গায় দেওয়াল নির্মাণ করে মাঠটি ঘিরে ফেলার উদ্যোগ নিলে এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ জানান।
এলাকাবাসীর আবেদনের প্রেক্ষিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নেন। গত মঙ্গলবার তাঁর নির্দেশে বন্দর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক রানার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে প্রতিনিধি দলটি এলাকাবাসীর সাথে কথা বলেন এবং ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় একটি মাঠের প্রয়োজনীয়তা গভীরভাবে অনুধাবন করেন। পরিদর্শন শেষে জনস্বার্থ রক্ষায় ওই স্থানে কোনো ধরণের দেওয়াল নির্মাণ না করার জন্য বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নির্দেশনা সত্ত্বেও বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ পুনরায় দেওয়াল নির্মাণের প্রস্তুতি গ্রহণ করায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। :
স্থানীয়রা জানান, এটিই এলাকার একমাত্র খেলার মাঠ। দেওয়াল দিলে শিশু ও কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে। এমপির প্রতিনিধি দলের বারণ সত্ত্বেও বিআইডব্লিউটিসি’র অনড় অবস্থান জনস্বার্থবিরোধী।
এলাকাবাসী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তাদের প্রাণের এই খেলার মাঠ রক্ষায় তারা প্রয়োজনে আরও কঠোর আন্দোলনে নামবেন। এ ব্যাপারে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, কোনো বাণিজ্যিক বা প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থের জন্য যেন সাধারণ মানুষের ফুসফুস হিসেবে পরিচিত এই উন্মুক্ত স্থানটি কেড়ে নেওয়া না হয়। সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম সংসদ অধিবেশনে ব্যস্ত থাকায় বিষয়টি নিয়ে তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে বন্দর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিবানী সরকার জানান,বিষয়টি সুরাহার ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভুমি) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে,তিনি কাজ করছেন।
বিআইডব্লিউটিসি যদি তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকে, তবে বড় ধরণের গণআন্দোলনের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সচেতন মহল।