আনোয়ারায় গৃহবধূ হালিমা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় স্বামী হাফেজ মো. মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৭।
সোমবার নগরীর চকবাজার আধুনিক চক সুপার মার্কেটের সামনে অভিযান পরিচালানা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেফতার মিজানুর রহমান (৩২) আনোয়ারা উপজেলার বটতলী ইউনিয়নের বরৈয়া এলাকার আব্দুল নবী মেম্বারের ছেলে।
র্যাব জানায়, হালিমা আক্তার আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাঞ্চন মুন্সিবাড়ির মোহাম্মদ ইসহাকের মেয়ে। ২০২৩ সালের ২৫ অক্টোবর পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয় মিজানুর রহমানের সঙ্গে। তাদের সংসারে দেড় বছর বয়সী মিশকাতুল জান্নাত নামে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কলহ চলছিল। এ নিয়ে একাধিকবার সামাজিক বৈঠকও হয়। হালিমার পরিবারের দাবি, শ্বশুরবাড়ির লোকজন প্রায়ই তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় একপর্যায়ে তারা ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। তবে সম্প্রতি শ্বশুরের অসুস্থতার কথা বলে হালিমাকে আবার শ্বশুরবাড়িতে নেওয়া হয়।
গত ১০ মে ভোরে মিজানুর রহমান ফোন করে হালিমার পরিবারকে জানান, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। পরে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের টিনের চালের বীমের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় হালিমার মরদেহ দেখতে পান। এ সময় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্নও দেখা যায় বলে পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। হালিমার পরিবারের অভিযোগ, তাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর আত্মহত্যা হিসেবে ঘটনাটি সাজানোর চেষ্টা করা হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
এ ঘটনায় হালিমার বাবা মোহাম্মদ ইসহাক বাদী হয়ে আনোয়ারা থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, নগরী থেকে র্যাব-৭ তাকে আটক করেছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আজ তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।