ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য এসএমই ফাউন্ডেশনকে স্বতন্ত্র হোলসেল ল্যান্ডিং এজেন্সি হিসেবে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে এই সংস্থার জন্য ই ডাটাবেজ তৈরি ও পরিচালনার জন্য কর্মসূচি নেওয়া হবে। এই কর্মসূচির জন্য বিভিন্ন দাতা সংস্থার সহায়তায় প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। এই প্রকল্পের আওতায় ফান্ড সংকট মোকাবিলা করা হবে। সম্প্রতি শিল্প সচিব জাকিয়া সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, আগামীতে প্রকল্প বাজেট থেকে ও থোক বরাদ্দ দেওয়ার জন্য এসএমই ফাউন্ডেশনের নামে অর্থ বিভাগে একটি বাজেট কোড তৈরি করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রকল্প অনুমোদনের জন্য সরকারের মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামোতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের দফতর ও সংস্থা হিসেবে এসএমই ফাউন্ডেশনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
জানা গেছে, সভায় আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের গঠিত এক হাজার কোটি টাকার রিজার্ভ ফান্ড থেকে স্টার্টআপদের অনুকূলে বিতরণ করার ক্ষেত্রে বিসিক ও এসএমই ফাউন্ডেশনকে সম্পৃক্ত করা হবে।
এসএমই ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে নতুন করে নীতিমালা তৈরি করা হবে। তবে এর আগে বিদ্যমান নীতিমালা পর্যালোচনা করা হবে।
এসএমই রফতানি খাতে কোনো ধরনের অবদান রাখতে পারে কি না সে বিষয়ে পর্যালোচনা করা হয়েছে। যে কারণে এসএমই খাতের অবদান নিরূপণের জন্য বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে একটি সভার আয়োজন করা হবে। যে সভায় শিল্প মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, এনবিআর, বাংলাদেশ ব্যাংক, ইপিবি, বিসিকসহ আরও সংস্থার প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
জানা গেছে, মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ও এসএমইদের সুরক্ষার জন্য একটি কর্মশালার আয়োজন করা হবে। যে কর্মশালায় পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেড মার্কস প্রাপ্তির প্রয়োজনীয়তার বিষয় সচেতন করা হবে।
সভায় এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. মফিজুর রহমান বলেন, পাঁচ বছর মেয়াদি নিজস্ব ৭৪ কোটি ৫১ লাখ টাকা বাজেটের মাধ্যমে ২ হাজার ১৮০টি কর্মসূচি বাস্তবায়ন চলমান রয়েছে। বিগত সাড়ে তিন বছরে ১ হাজার ৬০০ কর্মসূচির মাধ্যমে ৪০ হাজার এসএমই উদ্যোক্তাদের সেবা প্রদান করা হয়েছে।
শিল্পভবন স্থাপনের জন্য ডিপিপি তৈরির সিদ্ধান্ত হলেও, জায়গার অভাবে অগ্রসর হওয়া যাচ্ছে না। জানা গেছে, ৫০টি ব্যাংক ২২০ কোটি টাকার ফান্ড গঠন করেছে শুধু স্টার্টআপদের অনুকূলে বিতরণ করার জন্য। ইতিমধ্যে ১৮টি ব্যাংক ৫২টি স্টার্টআপের অনুকূলে ১৫ কোটি টাকা বিতরণ করেছে। এ ছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংক ৫০০ কোটি টাকার রিজার্ভ ফান্ড গঠন করেছে। যেন ব্যাংকগুলোর ফান্ড বিতরণ শেষ হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফান্ডটি স্টার্টআপের অনুকূলে বিতরণ করতে পারে।