এই সেতু হলে গজারিয়ার সঙ্গে জেলা শহরের যোগাযোগ ছাড়াও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সঙ্গে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের যোগাযোগ সহজ হবে। এতে এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারসহ আর্থ-সামাজিক অবস্থার যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে বলে এমনটাই জানিয়েছে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিয়াউল ইসলাম চৌধুরী।
নদী বেষ্টনীর এই গজারিয়া উপজেলা থেকে জেলা সদরের সহজতর যোগাযোগের মাধ্যম নদী পারাপারে ব্যবহৃত বাহন একমাত্র ট্রলার। সেতুটি হলে ঝড়বৃষ্টি এবং উত্তাল মেঘনার ঢেউ পাড়ি দেওয়ার কষ্ট শেষ হবে।
বৃষ্টি এবং উত্তাল মেঘনার ঢেউ উপেক্ষা করে দুই পারের মানুষ যাতায়াত করে আসছে। এই উপজেলার প্রায় দুই লাখ মানুষের একটাই দাবি ব্রিজ। আর এই দাবি পূরণের প্রাক প্রস্তুতি দেখে আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিন দেখা যায়, মুন্সীগঞ্জ থেকে গজারিয়ায় সরাসরি যোগাযোগে সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে মেঘনা নদীর তলদেশের মাটি পরীক্ষার কাজ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। মুন্সীগঞ্জ ও গজারিয়া অংশে মেঘানা নদীর মাঝ অংশে সেতু তৈরির জন্য শুরু হয়েছে মাটি পরীক্ষার কার্যক্রম। পদ্মার সেতুর পর মুন্সীগঞ্জের গজারিয়াবাসীর জয়ে প্রথম ধাপের কার্যক্রম সেতু তৈরির জন্য মাটি পরীক্ষার কার্যক্রম ইতিমধ্যে প্রায় শেষের দিকে। প্রায় ১৯৫৪ সালের দিকে গজারিয়া থানা প্রতিষ্ঠিত হয়। এবং পরবর্তীতে ১৯৮৩ সালে এটি উপজেলায় রূপান্তরিত হয়। সেই সময় থেকে এ অঞ্চলের মানুষদের জেলা সদরের সাথে যোগাযোগ করতে হলে উত্তাল মেঘনা নদী কিংবা নারায়ণগঞ্জ হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কযোগে ৭০ কিঃমিঃ পথ পাড়ি দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। যেখানে ১৫শ মিটারের একটি ব্রীজ হলেই কয়েক মিনিটের ব্যবধানে নির্ভয়ে পারাপার হওয়া যায় গজারিয়া থেকে মুন্সীগঞ্জ কিংবা মুন্সীগঞ্জ থেকে গজারিয়া। টিপসা’র সয়েল টেকনিশিয়ান মো. তাইজুদ্দিন রহমান জানান, মুন্সীগঞ্জ সীমানাধিন মেঘনা নদীর উভয়পাশে গত কয়েক মাস যাবৎ চলছে ব্রীজের উপযুক্ত জায়গায় নির্ধারণের জন্য মাটি পরিক্ষার-নিরিক্ষার কার্যক্রম। উভয় পারে ও নদীসহ ১০টি স্থানে মাটি পরিক্ষা করা হবে। যার মধ্যে ৮টি পরিক্ষা প্রায় শতভাগ সম্পন্ন। নদীর মধ্যে ২টি পয়েন্টে মাটি পরিক্ষা করা হচ্ছে। ৮০ থেকে ১৫০ মিটার গভীর পর্যন্ত মাটি পরিক্ষা করা হচ্ছে।
আবহাওয়া ভালো থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই কাজ শেষ হবে। প্রাথমিক কাজ শেষ হলে ডিজাইনের টেন্ডার হবে। তিনি আরও বলেন, এখানে মাটি অনেক ভালো পেয়েছি। আশাকরি এখানেই ব্রীজ করা যাবে। গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী অঅফিসার জিয়াউল ইসলাম চৌধুরী বলেন, এই সেতু হলে গজারিয়ার সঙ্গে জেলা শহরের যোগাযোগ ছাড়াও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সঙ্গে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের যোগাযোগ সহজ হবে। এতে এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারসহ আর্থ-সামাজিক অবস্থার যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে।