আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক হাজী আশরাফ উদ্দিন শ্রমজীবী মানুষের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে তিনি শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত, সম্মানজনক জীবনযাপন এবং মানবিক কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার জোর আহ্বান জানান। আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, আমাদের চারপাশে যে উন্নয়ন চোখে পড়েরাস্তা, ঘরবাড়ি, কলকারখানা কিংবা কৃষিক্ষেত্র-সবকিছুর পেছনেই রয়েছে শ্রমজীবী মানুষের নীরব অবদান। ভোরের আলো ফোটার আগেই যাদের দিন শুরু হয়, সন্ধ্যা পেরিয়ে যারা ক্লান্ত শরীরে ঘরে ফেরেন, তারাই এই দেশের প্রকৃত চালিকাশক্তি।
একজন উদ্যোক্তা হিসেবে শ্রমিকদের বাস্তবতা কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শ্রমিকদের পরিশ্রমই একটি প্রতিষ্ঠানের প্রাণশক্তি। তাদের আন্তরিকতা ও ঘামের ওপর ভর করেই একটি প্রতিষ্ঠান এগিয়ে যায়। তাই তাদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও সম্মান নিশ্চিত করা প্রতিটি মালিকের নৈতিক দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য, এই শ্রমিকদের একটি বড় অংশ এখনো ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত। অনেকেই পরিবার-পরিজনের মুখে হাসি ফোটাতে নিজের কষ্ট, অভাব ও অনিশ্চয়তাকে নীরবে বয়ে বেড়াচ্ছেন। তাদের এই সংগ্রাম আমাদের বিবেককে নাড়া দেয়।
হাজী আশরাফ উদ্দিন বলেন, “শ্রমিকদের ঘাম শুধু উৎপাদন বাড়ায় না, এটি একটি দেশের স্বপ্নকে এগিয়ে নেয়। কিন্তু সেই শ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন না হলে উন্নয়ন কখনোই মানবিক হতে পারে না। শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করা মানে শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয়, এটি সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠারও অংশ।
তিনি আরও বলেন, মে দিবস আমাদের কেবল অতীতের একটি আন্দোলনের কথা মনে করিয়ে দেয় না, এটি বর্তমান সময়ের বাস্তবতাও সামনে নিয়ে আসে। আজও বহু শ্রমিক তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। তাই এই দিবস আমাদের নতুন করে দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে—আমরা কতটা শ্রমিকবান্ধব সমাজ গড়ে তুলতে পেরেছি, তা ভাবার সময় এসেছে।
সংক্ষিপ্তভাবে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, “শ্রমঘণ্টা নির্ধারণ, ন্যায্য মজুরি ও মানবিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম থেকেই মে দিবসের সূচনা। সেই চেতনা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক এবং আমাদের পথ দেখায়।” শেষে তিনি বলেন, আসুন, আমরা সবাই মিলে শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়াই। তাদের সম্মান, অধিকার ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধ হই। তাহলেই গড়ে উঠবে একটি মানবিক, বৈষম্যহীন ও উন্নত সমাজ।