গোপালগঞ্জে সম্প্রতি চোখের প্রদাহজনিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এটি চোখের ভাইরাল কনজাংটিভাইটিস। রোগটি মূলত ছোঁয়াচে ও ভাইরাসের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। জেলার প্রতিটি এলাকায় শিশু ও বয়স্কসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষের মধ্যে এ রোগের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষন ইনিস্টিটিউট ও গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ জন রোগী চোখের প্রদাহ রোগের চিকিৎসা নিচ্ছে। কিন্তু হাসপাতালে পর্যাপ্ত চোখের ড্রোপ না থাকায় বিপাকে পড়ছেন রোগীরা । অনেকেই ব্যবস্থা পত্র ছাড়াই বাইরের ফার্মেসী থেকে চোখের ড্রোপ কিনে ব্যবহার করছেন।
কয়েকদিন ধরে চোখের চুলকানী, চোখ লাল হওয়া ও পানি পড়ার লক্ষন নিয়ে রোগীরা উপজেলা হাসপাতালে আসছেন। অনেকেই প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বেশির ভাগ রোগীরা বলছেন চোখের চুলকানী ও লাল হয়ে আছে। সকালে ঘুম থেকে উঠে দুই চোখ আটকে থাকে, পানি দিয়ে অনেক্ষন পরিষ্কার করে চোখ খুলতে হয়। সমস্যা নিয়ে সদর হাসপাতালে টিকিট কাউন্টারে গেলে বলা হয় হাসপাতালে চোখের কোন ডাক্তার নেই। বাইরের একটি দোকান থেকে ড্রোপ কিনে ব্যবহার করছি। সরকারী হাসপাতালের আউট ডোরে সেবা নিতে আসা প্রায় ৯০ ভাগ রোগী চোখ ওঠার । এ দিকে হাসপাতালসহ স্থানীয় ফার্মেসিগুলোতে দেখা দিয়েছে চোখের ড্রোপের সংকট। দীগুন দামেও পাওয়া যাচ্ছে না এই ড্রোপ। অপর দীকে, বেড়েছে কালো চশমার বেচা-কেনা। ছোঁয়াচে রোগ হওয়ার কারনে এই সময়ে চোখ ওঠা রোগের প্রকোপ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা ৩০-৫০ টাকার ড্রোপ ৬০-১৪০ টাকা পর্যন্ত বিক্রয় করছেন। চোখ ওঠা রোগে আক্রান্ত কারো চোখের দিকে তাকালে চোখ ওঠে; সাধরান মানুষের এমন ভ্রান্ত ধারনায় ভীড় বেড়েছে দোকানে দোকানে। ১০০ টাকার কালো চশমা বিক্রয় হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়।
গোপালগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মাদ বলেন, চোখ ওঠা রোগটি মূলত ছোঁয়াচে ও ভাইরাসের মাধ্যমে সংক্রোমিত হয়। এবার প্রাদূর্ভাব বেশী। চোখে ভাইরাস আক্রান্তদের সচেতনতা বাড়াতে হবে। সবসময় হাত পরিষ্কার রাখতে হবে এবং চোখে বারবার হাত দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। ঋতু পরিবর্তনের কারনে এ সময় চোখের রোগ বালাই হয়ে থাকে। এ নিয়ে বিভ্রান্ত হওয়ার কোন দরকার নেই।