দেশের অন্যতম একটি পরিচিত গাছ হচ্ছে শাল। এ গাছের গোড়া থেকে চারা গজায় বলে ঢাকা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের মানুষ শালকে চিনে গজারি নামে।এই গাছ কাটা সরকারি ভাবে সম্পূর্ন নিষিদ্ধ। এ জাতের মা গাছগুলো আগেই হত্যা করা হয়েছে। এখন আগুন লাগিয়ে পুড়ে ছাই করে দেওয়া হচ্ছে শিশু চারাগুলোকেও। বছেরের পর বছর সবুজে ঘেরা এ বনে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে একটি চক্র। বন বিভাগের আওতাভুক্ত সরকারি এ বনের বিভিন্ন জায়গায় জ্বলছে আগুন। ফলে বন দখলের পাশাপাশি হুমকির মুখে জীববৈচিত্র।
বন বিভাগের ঘাটাইল ধলাপাড়া রেঞ্জ অফিসের প্রাপ্ত তথ্যমতে, উপজেলায় সংরক্ষিত ও সামাজিক বনভূমির পরিমাণ ২৫ হাজার ৭শত ১১ একর। সরেজমিন সাগরদীঘি বিটের আওতাধীন কামালপুর গ্রামের লক্ষণের বাধ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দিনের বেলায় বনে আগুন জ্বলছে। একই এলাকার ভূঁইয়া বাড়ি মোড়ের আশেপাশের বনেও আগুন জ্বলতে দেখা যায় কয়েকদিন আগে। শুষ্ক মৌসুম আর বাতাসের কারণে মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে বনের গভীর থেকে গভীরে। পুড়ছে বনের ছোট বড় গাছ। বিশেষ করে চারা শাল গজারি গাছ একেবারে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। স্থানীয়রা জানায়, প্রতি বছর এই দিনে বনে আগুন দেওয়া হয়। কারা আগুন দেয় তা তারা জানেন না।
কামালপুর গ্রামের মো. লাল মিয়া বলেন,প্রতি বছর এই মৌসুমে বনে আগুন জ্বলে। তার অভিযোগ প্রভাবশালীদের কাছ থেকে উৎকোচ নিয়ে অসাধু বন কর্মকর্তারা এসব ঘটনা ঘটাচ্ছেন। রাতে অথবা দিনের কোনো এক সময় সুযোগ বুঝে তারা আগুন দিয়ে চলে যান। এতে তাদের লাভ আছে। বন ধ্বংস করে বনের জায়গায় বাড়িঘর তুলে দিতে পারলে বাড়তি টাকা আদায় করতে পারে তারা।
ফকির মার্কেট এলাকার হযরত আলী জানান, বনের ভেতর গরু-ছাগল পালন করতে হয়। আগুনে ঘাস, লতা-পাতা ও কীটপতঙ্গ ধ্বংস হয়ে যায়। মাঝরাতে আগুন দেওয়ার ঘটনা বেশি ঘটে। তারও অভিযোগ এ কাজে জড়িত মাদকসেবী অথবা বন বিভাগের লোকজন। মালিরচালা গ্রামের বাদল ভূইয়া বলেন, লক্ষণের বাধ এলাকায় অনেকটি বানর ও বনবিড়ালের দেখা মিলত। কিন্তু বনে আগুন দেওয়ার ফলে কিছুদিন ধরে সেগুলো আর দেখা যাচ্ছে না। এদিকে আগুন দেওয়ার ফলে বনের ছোট গাছ পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার ফলে সেখানে নতুন করে কোনো গাছ বেড়ে উঠতে পারে না। তবে এ বিষয়ে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় না উর্ধতন বন কর্মকর্তাদের।
সাগরদীঘি বিট অফিসের মালির দায়িত্বে থাকা শামছুল হকের ভাষ্য,খবর পেয়ে কয়েক জায়গায় আগুন নিভিয়েছেন তারা। কে কখন বনে আগুন ধরিয়ে চলে যায়, এটা ধরা খুবই কঠিন। তার সন্দেহের তীর মাদকসেবীদের দিকে।
সাগরদীঘি বন বিভাগের বিট কর্মকর্তা মো.আসাদুজ্জামন বলেন, কারা বনে আগুন দেয় তা আমরা জানি না। খবর পেয়ে আমরা গিয়ে আগুন নিভাই। স্থানীয়দের অভিযোগ আপনারাই নাকি বনে আগুন লাগান? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি উল্টো প্রতিবেদককে প্রশ্ন করেন এতে আমাদের স্বার্থ কি? তার ভাষ্য, এ ব্যাপারে আমরা থানায় সাধারণ ডাইরী করেছি।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদুজ্জামন বলেন, ‘কারা বনে আগুন দিচ্ছে তা বের করা কঠিন। খোঁজ নিয়ে তাঁদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। বন বিভাগের কোনো কর্মচারী বনে আগুন দেওয়ার ঘটনায় জড়িত থাকলে তাঁদের খুঁজে বের করা হবে বলেও তিনি জানান।