শেরপুরে এক কাপড় ব্যবসায়ীর কন্যাকে টার্গেট করে প্রায় সাড়ে ২৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও ৩ লাখের বেশি টাকা হাতিয়ে নেওয়া প্রতারক চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), জামালপুর।
শেরপুর সদর থানার মামলা নং-৪২ ১৭ মার্চ ২০২৬, ধারা ৪২০/৪০৬ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী ছাইদুর রহমান অভিযোগ করেন—তার অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া ১৩ বছর বয়সী কন্যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ভিডিও দেখে মানসিকভাবে প্রভাবিত হয়ে পড়ে। সে মনে করতে থাকে, বাবা-মা তাকে কম ভালোবাসেন।
এই সুযোগে “কবিরাজ” পরিচয়ে প্রতারক মোঃ খুরশেদ নামের এক ব্যক্তি ইমু অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে। সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে ৬ মার্চ থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত বিকাশের মাধ্যমে মোট ২,৪৩,১৫০ টাকা নেয়। পরে ১০ মার্চ ঝাড়ফুঁকের কথা বলে সাড়ে ২৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।
ঘটনার পর বিকাশে আবার টাকা পাঠাতে গেলে দোকানদারের সন্দেহ হলে বিষয়টি পরিবারের কাছে প্রকাশ পায় এবং প্রতারণার ঘটনা ধরা পড়ে।
মামলার তদন্তে নেমে পিবিআই জামালপুর প্রযুক্তির সহায়তায় ৯ এপ্রিল গাজীপুরের শ্রীপুর এলাকা থেকে দুই আসামি—মুছা মিয়া (২৯) ও রফিকুল ইসলাম (২৮)-কে গ্রেফতার করে। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ এপ্রিল ময়মনসিংহের মাসকান্দা এলাকা থেকে মূলহোতা মনির হোসেন (২১)-কে আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃত মনির হোসেনের তথ্য অনুযায়ী তার বাড়ির পাশের বাগানে মাটি খুঁড়ে প্রায় ২৫ ভরি ৯ আনা স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬৪ লাখ টাকা। এছাড়া প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে।
তদন্তে জানা যায়, এই চক্রটি ইমু অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষকে তাদের ব্যক্তিগত সমস্যার সমাধানের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করত।
পিবিআই জামালপুরের পুলিশ সুপার জানান, “মামলার তথ্য পাওয়ার পরই আমরা একাধিক টিম গঠন করে দ্রুত তদন্ত শুরু করি। সদস্যদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় অল্প সময়ের মধ্যেই মূল রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে।”
তিনি সাধারণ মানুষকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া বিজ্ঞাপন বা তান্ত্রিকের প্রলোভনে পড়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো আর্থিক লেনদেন না করার জন্য সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।।