একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি মানেই যেন আরেকটি নতুন পথচলার সূচনা। সেই চিরচেনা সত্যের আবেগঘন প্রতিফলন দেখা গেল গাজীপুরের শ্রীপুরে কেওয়া খাদিজাতুল কুবরা (রাঃ) মহিলা ফাজিল মাদ্রাসায়।
(১৬ই এপ্রিল বৃহস্পতিবার) দাখিল-২০২৬ (এস,এস,সি.সমমান) পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও দোয়া অনুষ্ঠান পরিণত হয় স্মৃতিমাখা এক বর্ণিল অথচ বিষণ্ন আয়োজনে, যেখানে হাসি আর অশ্রু মিশে তৈরি করে এক অন্যরকম আবহ।
মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সকাল থেকেই জমে ওঠে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে এক আন্তরিক মিলনমেলা। বিদায় নিতে যাওয়া শিক্ষার্থীরা ছিল কখনো হাসিখুশি, আবার কখনো নীরব-মনে জমে থাকা বহু দিনের স্মৃতি আর অজানা ভবিষ্যতের দোলাচলে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীপুর পৌর বিএনপির সদস্য সচিব মোঃ বিল্লাল হোসেন বেপারি। তিনি তার বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, জীবনের এই সন্ধিক্ষণে তোমাদের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। কিন্তু তোমরা যদি সততা, পরিশ্রম আর নৈতিকতা ধরে রাখো, তবে সাফল্য তোমাদের নাগালেই থাকবে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করাই নয়, ভালো মানুষ হিসেবেও গড়ে উঠতে হবে।
সভাপতিত্ব করেন ফারুক আহমেদ মমতাজী। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, বিদায় মানে বিচ্ছেদ নয়, বরং এটি নতুন স্বপ্নের পথে প্রথম পদক্ষেপ। আজ যারা বিদায় নিচ্ছো, তারাই একদিন এই সমাজ, দেশ ও জাতির নেতৃত্ব দেবে। তার কথায় উঠে আসে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি গভীর আস্থা ও প্রত্যাশা।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নইমুদ্দিন ফকির, এস এম জসিম, আজিজুল হক রাজন, মামুন, হাবীবুল্লাহ, জাহাঙ্গীর মন্ডল, আজগর আলী, নাজমূল হাসান, মোফাচ্ছেল ফকিরসহ মাদ্রাসার সম্মানিত শিক্ষকমণ্ডলী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করে। কেউ বলেছে প্রিয় শিক্ষকদের ছেড়ে যাওয়ার কষ্টের কথা, কেউ আবার স্মরণ করেছে বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো হাসি-আনন্দের দিনগুলো। শিক্ষকরাও আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তাদের ছাত্রছাত্রীদের জন্য দোয়া ও আশীর্বাদ করেন।
শেষে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। সেই মোনাজাতে যেন ভেসে ওঠে শত শত স্বপ্ন-ভালো ফলাফল, উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, আর আলোকিত জীবনের প্রত্যাশা। মাদ্রাসা প্রাঙ্গণজুড়ে তখন এক গভীর নীরবতা, শুধু শোনা যায় দোয়ার মৃদু ধ্বনি আর অশ্রুসিক্ত বিদায়ের অনুভব।
বিদায়ের এই ক্ষণিকের বেদনা পেরিয়ে শিক্ষার্থীরা এগিয়ে যাবে নতুন দিগন্তের দিকে-এই প্রত্যাশাতেই শেষ হয় দিনটি। তবে মাদ্রাসার দেয়াল, শ্রেণিকক্ষ আর প্রাঙ্গণে থেকে যাবে তাদের পদচারণার স্মৃতি, যা হয়তো বারবার ফিরে আসবে হৃদয়ের গভীরে।