দুর্নীতির মামলায় মানিকগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি মো. রমজান আলীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে মানিকগঞ্জের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এসকে এম তোফায়েল হাসান দুই পক্ষের আইনজীবীদের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
দুদকের আইনজীবী ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রমজান আলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা তিনটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলা উচ্চ আদালতে স্থগিত আছে। বাকি দুটি মামলায় তিনি দীর্ঘদিন আদালতে অনুপস্থিত থাকায় গত ১ ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে তিনি বৃহস্পতিবার স্বেচ্ছায় আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
রমজান আলীর আইনজীবী এ টি এম শাহজাহান বলেন, তার মক্কেল আগে থেকেই জামিনে ছিলেন। অসুস্থতার কারণে তিনি আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। আজ উপস্থিত হয়ে জামিন চাইলে আদালত তা নাকচ করেন। তিনি আরও বলেন, পুনরায় জামিন আবেদন করা হবে এবং তারা আশাবাদী আদালত তা মঞ্জুর করবেন।
দুদকের আইনজীবী দেওয়ান মিজানুর রহমান বলেন, রমজান আলীর বিরুদ্ধে তিনটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে একটি স্থগিত থাকলেও বাকি দুটি মামলায় অনুপস্থিতির কারণে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে তা নামঞ্জুর করা হয়।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৮-৯৯ সালে মানিকগঞ্জ পৌর সুপার মার্কেটের দক্ষিণ পাশের জায়গা ভরাটের কাজ দেওয়া হয় মেসার্স মহুয়া কনস্ট্রাকশনের মালিক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম মট্টুকে। তবে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই তৎকালীন মেয়র রমজান আলী ওই কাজ বারবার বর্ধিত করেন। ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশে তিনি পৌরসভার তহবিল থেকে ৪ লাখ ২২ হাজার ৭৮০ টাকা আত্মসাৎ করেন।
এছাড়া, ১৯৯৮ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত মানিকগঞ্জ কাঁচাবাজারের দক্ষিণ পাশের খাদ ভরাটের কাজও একই ঠিকাদারকে দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রেও মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া কাজের মেয়াদ বাড়িয়ে প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার ৩৩০ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। এ ঘটনায় ২০০৭ সালের ৩ মে দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল মাজেদ বাদী হয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেন।
অন্য একটি মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০০৪ সালে পৌরসভার জিপ মেরামতের নামে সাবেক মেয়র রমজান আলী ও তৎকালীন ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার হামিদুর রশিদ কাজল দুটি চেকের মাধ্যমে ১ লাখ টাকা তুলে আত্মসাৎ করেন। পরে ২০০৬ সালে একইভাবে আরও ১ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। এ ঘটনায় ২০০৭ সালের ৩০ এপ্রিল একই কর্মকর্তা বাদী হয়ে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।
এই তিনটি মামলায় আদালত ইতোমধ্যে চার্জ গঠন করেছেন। মামলাগুলোতে অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মেয়র রমজান আলী, সাবেক কমিশনার হামিদুর রশিদ কাজল, ইকবাল হোসেন এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম মট্টু। তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ৩ ডিসেম্বর দুদকের সহকারী পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।