ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনীতির মাঠে সবচাইতে বড় চমকটি এলো রবিবার সকালে। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান-বনানী ও বারিধারা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৭ আসনে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
আজ রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় তার পক্ষে এই আসনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।মনোনয়ন সংগ্রহ ও নিশ্চিতকরণ রোববার বেলা ১১টা ২৬ মিনিটে বিএনপির মিডিয়া সেলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
পোস্টে জানানো হয়, রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে বেলা ১১টায় তারেক রহমানের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার।
পার্থের রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও সরে দাঁড়ানো বিএনপির প্রাথমিক প্রার্থী তালিকায় ঢাকার যে তিনটি আসন ফাঁকা রাখা হয়েছিল, তার মধ্যে অন্যতম ছিল ঢাকা-১৭। বিএনপির দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গী ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ এই আসন থেকে নির্বাচন করবেন বলে জোর গুঞ্জন ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে এক অনন্য রাজনৈতিক শিষ্টাচারের দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন পার্থ। তারেক রহমানের সম্মানে তিনি এই ভিআইপি আসন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।
আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন,ঢাকা-১৭ আসনে বেস্ট প্রার্থী তারেক রহমান। তিনি আমাদের সবার সম্মানের এবং বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। দীর্ঘদিন নির্বাসনে থেকে তিনি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। আমি তারেক ভাইয়ের সম্মানে ঢাকা-১৭ আসন থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করিনি। আমাদের সবার উচিত তাকে এই আসনে সমর্থন দেওয়া।
পার্থ জানিয়েছেন, ঢাকা-১৭ ছেড়ে ভোলা-১ আসন থেকে নির্বাচন করবেন তিনি। শুধু ঢাকা-১৭ নয়, বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বগুড়া-৬ সংসদীয় আসন থেকেও নির্বাচন করবেন তারেক রহমান। অর্থাৎ, এবারের নির্বাচনে তিনি দুটি গুরুত্বপূর্ণ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে লড়বেন।
১৭ বছর পর দেশে ফিরে একইসঙ্গে দুটি হাই-প্রোফাইল আসনে তারেক রহমানের প্রার্থী হওয়া এবং জোটসঙ্গীদের এমন ত্যাগের ঘটনা নির্বাচনের মাঠে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি করেছে।