নারায়ণগঞ্জ কাঁচপুর ব্রীজের পূর্ব প্রান্ত থেকে নিজের মোটরসাইকেল নিয়ে মুন্সিগঞ্জে বোনের শ্বশুর বাড়ি যাবার উদ্দেশ্যে রওনা হন জাহিদুল ইসলাম।সাথে ছিলেন তার বৃদ্ধ বাবা। যাত্রাপথে জ্বালানি তেল ফুরিয়ে গেলে মোটরসাইকেল ঠেলে সাইনবোর্ড এলাকার চৌরঙ্গি ফিলিং স্টেশনে ঢোকেন।কিন্তু সেখানে তেল নেই সাইনবোর্ড সাঁটানো দেখতে পেয়ে অনেকটা হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
প্রখর রোদের মধ্যে মোটরসাইকেল ঠেলে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন বাবা ছেলে।
এ বিষয় নিয়ে কথা হয় তাদের সঙ্গে।আলাপকালে তারা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে।চরম দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তেল শেষ হয়ে যাওয়ার পর অনেক কষ্ট করে এখানে আসলাম। কিন্তু এসে শুনি তেল নেই। এখন কী করবো বুঝতে পারছি না।
সাইনবোর্ডে ওই ফিলিং স্টেশনের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার থেকে তাদের স্টেশনে কোনো তেল নেই। ডিপোতে একাধিকবার গাড়ি পাঠিয়েও তেলের মজুদ করতে পারেননি। সকাল বেলায় একটি গাড়ি ডিপোতে পাঠানো হয়েছে, যা দুপুর দুইটা পর্যন্ত ফেরেনি। ডিপো থেকে তেল পাওয়া গেলে স্টেশনে তা বিক্রি করা হবে বলেও জানান এ ফিলিং স্টেশনের এক কর্মকর্তা।
তেল বিক্রি বন্ধ থাকায় অলস সময় পার করতে দেখা গেছে এখানকার কর্মীদেরও। কেউ পত্রিকা পড়ছিলেন, অন্যরা একে-অপরের সঙ্গে খোশ-গল্পে ছিলেন ব্যস্ত।
আধাঘন্টা পর্যবেক্ষণে এ ফিলিং স্টেশনে সাতটি মোটরসাইকেল জ্বালানি তেল নিতে এসে সরবরাহ বন্ধ থাকায় বিরক্তি নিয়ে ফিরে গেছেন।
মাহফুজ নামের এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, দেশে তো তেল আসতেছে।সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, পর্যাপ্ত তেল মজুদ আছে। কিন্তু আমরা তো রোডে বের হলে তেল পাচ্ছি না। গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হইলেই ঠেলে ঠেলে যেতে হয়।
যান চালকদের অভিযোগ, জেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনের একই চিত্র। বেশিরভাগ স্টেশনে তেল বিক্রি বন্ধ। যেগুলোতে মিলছে তাও রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রি হচ্ছে, যা অপর্যাপ্ত।
ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল না পাওয়া গেলেও খুচরা বাজারে অতিরিক্ত দামে তেল ঠিকই বিক্রি হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন যানবাহনের চালকদের।
যোগাযোগ করা হলে সিদ্ধিরগঞ্জ গোদনাইলের মেঘনা ডিপোর ইনচার্জ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এখন সপ্তাহে সাত দিনই ডিপো থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে। যে পরিমাণ নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে, সেটাই দিচ্ছি আমরা।