খুলনার পাইকগাছায় গড়ইখালী ইউনিয়নের কুমখালীস্থ পাউবোর ১০/১২ নং পোল্ডারে খুতখালীর ভাঙন কবলিত ৬০ মিঃ ভেড়িবাধ ফাটলের ঘটনায় স্থানীয়রা বাড়ীঘর সহায় সম্পদ সরিয়ে ফেলছেন। শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এলাকার মানুষ। শিবসা নদীর অস্বাভাবিক জোয়ারের পানির চাপে খুঁতখালীর ভাঙন কবলিত বেঁড়িবাধে ধস নেমে ফাঁটল দেখা দিলে পোল্ডারে লবন পানি প্রবেশের হুমকিতে পড়ে। এ ঘটনায় খুলনা-৬’র সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ আক্তারুজ্জামান বাবুর হস্তক্ষেপে পানি উন্নয়ন বোর্ডের খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী, জাইকা প্রতিনিধি ও ইউপি চেয়ারম্যান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জরুরী বাঁধ মেরামতের পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দরা জরুরী ভাবে টেকসই বেঁড়িবাধ নির্মানের দাবি তোলেন। পরিদর্শনকালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্থানীয় শাখা প্রকৌশলী মোঃ রাজু হাওলাদার জানান, ১০/১২ পোল্ডারস্থ গড়ইখালীর খুঁতখালীতে শিবসা নদী ভাঙনে ১শ মিঃ ঝুকিপূর্ণ বাঁধ দীর্ঘদিনের। প্রতি বর্ষ্যা মৌসুমে দুর্যোগ হলেই এখানে ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখা দেয় এবং জরুরী ভিত্তিতে রাস্তা মেরামত করা হলেও তা স্থায়ী হচ্ছে না। তিনি আরোও জানান, সর্বশেষ আম্যাবর্ষ্যা শেষে অতি জোয়ারে ঝুঁকিপূর্ন বাঁধে ধ্বস ও ফাঁটল সৃষ্টি হলে পোল্ডার অভ্যন্তরে পানি প্রবেশের আশংঙ্কা দেখা দেয় এ পরিস্থিতিতে গড়ইখালী ইউপি চেয়ারম্যানের প্রচেষ্টায় ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধে মাটি ফেলে তা মেরামত করা হচ্ছে। এ বিষয়ে গড়ইখালী ইউপি চেয়ারম্যান জি,এম, আঃ ছালাম কেরু বলেন, গত দু’দিন ধরে বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে মাটি ফেলে তা রক্ষার চেষ্টা চলছে। তিনি আশংঙ্কা করছেন, এই মুহুর্তে টেকসহ বাঁধের কাজ শুরু না হলে আগামীতে অতি জোয়ারে পোল্ডারে লবন পানি ঢুকলে রবি মৌসুমের ধান, তরমুজ, মিষ্টি কুমড়া, উচ্ছে, ঢেঁড়স সহ সকল সবজি চাষ ও বাড়ী-ঘর প্লাবিত হয়ে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটতে পারে। এ সময় ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ পরিদর্শন শেষে খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল আলম জানান, ইতোমধ্যে জাইকার অর্থায়নে ১০/১২ পোল্ডারের খুঁতখালী সহ অন্যান্য স্থানের বেঁড়িবাঁধ নির্মানে প্রকল্প গ্রহন করা হয়েছে। তিনি দুর্ঘটনা রোধে তাৎক্ষণিক ভাবে বাঁধের ভিতরের অংশে বিকল্প রিং বাঁধ শুরুর কথা বলেন।জাইকা প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম বলেন, ১ সপ্তাহের মধ্যে ১শ মিঃ ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের মধ্যে ৬০ মিঃ বাঁধের ফাটল স্থানে জিওব্যাগ ও ডাম্পপিং সহ ভিতরে রিং বাঁধ দিয়ে জান-মাল রক্ষা করা হবে।