কুমিল্লার হোমনা পৌরসভার অন্তর্গত শ্রীমদ্দি গ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে এক বৃদ্ধাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে তারই পুত্র এবং পুত্রবধূদের বিরুদ্ধে।
গুরুতর আহত অবস্থায় ওই বৃদ্ধা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। আহত বৃদ্ধা শামফুলের নেছা (৭৮) অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তার সন্তানরা সম্পত্তির অংশ নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে তার আপন ছেলেরা এবং ছেলের স্ত্রী- রা তাকে প্রায়ই শারীরিক নির্যাতন করত। সর্বশেষ গতকাল তার ছেলে আতাউল্লার স্ত্রী এবং তার আরো তিন পুত্রবধূ তাকে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত করে।
সন্তানদের অত্যাচারে ও হত্যার হুমকিতে বাড়ি ছাড়া দীর্ঘদিন সত্তর্ধ দুঃখিনী “মা”। আলাদা করে রেখেছে বৃদ্ধ পিতাকেও। সম্প্রতি জোর পূর্বক কাজী অফিসে নিয়ে গিয়ে বাবাকে দিয়ে এই বৃদ্ধা মাকে তালাক দেয়ার চেষ্টা করেছিলো বলেও অভিযোগ উঠে পাষন্ড সন্তান ও সন্তানের স্ত্রীদের বিরুদ্ধে।
তিনি আরও দাবি করেন, আমাকে হত্যা করে আমার সম্পত্তি দখল করা এবং কবির মিয়া গংদের বিরুদ্ধে মামলা দিবে পরিকল্পনা করছে। বর্তমানে আমি আমার নিজের সন্তান ও পুত্রবধূদের কাছেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, তার স্বামীকেও জোরপূর্বক আটকে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত ছেলে আতাউল্লার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনাটিকে ‘পারিবারিক বিষয়’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এটার একটি বড় প্রেক্ষাপট রয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে সংবাদ প্রকাশ করা উচিত। তবে মাকে মারধরের অভিযোগের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো মন্তব্য করেননি।
এদিকে, হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টর্মাস বড়ুয়া জানান, “ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।