সাতক্ষীরার আশাশুনিতে হারি চুক্তিতে ইজারা নিয়ে অবৈধভাবে সম্পত্তি দখল করতে না পেরে বিএনপির দুই নেতার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার ও কথিত ভূমিহীনদের নামে একটি ভিত্তিহীন মানববন্ধের অভিযোগ উঠেছে।
আজ বুধবার (১৩ মে) সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের আব্দুল মোতালেব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে আশাশুনি উপজেলার লাঙ্গলদাড়িয়া গ্রামের মৃত ছহিলউদ্দিন মল্লিকের ছেলে জেলা তাঁতীদলের সভাপতি হাসান শাহরিয়া রিপন এই অভিযোগ করেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আশাশুনির শ্রীউলা ইউনিয়নের লাঙ্গলদাড়িয়া মৌজায় ডিএসএ খতিয়ান ভুক্ত মল্লিকদের প্রায় ৩২ একর জমি এস এ খতিয়ানে ভুলবশতঃ ১/ক খতিয়ান ভুক্ত হয়। উক্ত সম্পত্তি থেকে জমির মালিক মল্লিক গংরা প্রায় ৬ একর জমি আশাশুনির রাজু আহমেদ পিয়ালকে মাছ চাষের জন্য ইজারা দেয়। পরে রাজু আহমেদ পিয়ালের কাছ থেকে ২ একর জমি মৌখিক চুক্তিতে ইজারা নেয় ৮নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি আমিরুল ইসলাম গং। গত ১৪/১৫ বছর যাবত বাৎসরিক ইজারার টাকা পরিশোধ করলেও সম্প্রতি উক্ত সম্পত্তি তারা অবৈধভাবে দখলের চক্রান্ত শুরু করে।
কিন্তু আদালতে ১৪৫ ধারায় মামলা করেও সম্পত্তি দখল করতে না পেরে ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক মো. শহীদুল্লাহ’র নেতৃত্বে তারা আমাদের বিরুদ্ধে নানান ষড়যন্ত্র শুরু করে। এরই জের ধরে মঙ্গলবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে কথিত ভূমিহীন সেজে একটি মানববন্ধন করে। সেখানে আমাকে এবং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুজ্জামান ছট্টর বিরুদ্ধে জঘন্য মিথ্যাচার করা হয়েছে। আমরা এঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। হাসান শাহরিয়া রিপন আরো বলেন, জমির মালিকদের মধ্যে আমি নিজে এবং শ্রীউলা ইউনিয়ন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মল্লিক আবু মুসা মাষ্টার, সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল মালেক মল্লিক, ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ খোরশেদ আলম, জামায়াত নেতা মোস্তফা মোঃ নুরুজ্জামান মল্লিক, শাহাজাহান মল্লিক, হাসানুজ্জামান টিটু মল্লিক, বিএনপি নেতা আবুল কালাম মল্লিক, আসাদুজ্জামান সাদ্দাম মল্লিকসহ বিএনপি ও জামায়াত ইসলামী নেতারা পৈত্রিক সূত্র উক্ত জমির মালিক। উক্ত জমি এসএ খতিয়ানে ভুলবশতঃ খাস খতিয়ান ভুক্ত হলে ভুল সংশোধনের জন্য আমরা সহকারী জজকোর্টে কেস করি এবং আদালত আমাদের পক্ষে রায় দেন।
এই রায়ের বিরুদ্ধে সরকার জেলা জজ আদালতে আপিল করে। জেলা জজ আদালতের রায় ও আদেশ আমাদের পক্ষে হলে বর্তমানে সরকার পক্ষ হাইকোর্টে আপিল করেন। হাইকোটে কেস চলাকালে কর্তৃপক্ষ কোন জমি ডিসিআর দিতে পারেনা। সে কারনে উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সামনে তৎকালিন উপজেলা সহকারি কমিশনার রাশেদ ডিসিআর প্রদানে মৌখিকভাবে ভুল স্বীকার করে বলেন ৫ আগস্টের পরে অনেকে ভুল ইনফরমেশন দিয়ে এরকমটা করে নিয়েছে। আগামীতে এরকমটা আর হবে না। এরপরেও ওরা ১৪৫ ধারায় মামলা দায়ের করেছিলো।
তিনি আরো বলেন, যুবদল নেতা আমিরুল ইসলাম গংরা জমির মালিকদের কাছ থেকে ইজারা গ্রহিতা রাজু আহমেদ পিয়ালের কাছ থেকে মৌখিকভাবে ২ একর জমি ইজারা নিয়ে পরে তা দখলের চেষ্টা করে। বিষয়টি আমরা জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দকে জানালে সমস্যা সমাধানের জন্য ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুজ্জামান ছট্টু ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। তারা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছে। অথচ উল্লেখিত অবৈধ দখলদাররা তাদের জড়িয়ে মিথ্যাচার করেছে। তিনি মিথ্যা মানববন্ধনকারি ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নালিশী সম্পত্তি জমির মালিকদের ফিরিয়ে দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে শ্রীউলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুজ্জামান ছোট্ট, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, শ্রীউলা ইউনিয়ন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মল্লিক আবু মুসা মাষ্টার প্রমুখ উস্থিত ছিলেন।