দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিতে এ মুহূর্তে ভালো ও মন্দ দু’ধরনের খবরই মিলছে। যেমন– ভালো খবর হচ্ছে কোথাও কোথাও পণ্যমূল্য কমেছে। আবার কোনো দেশে সেবা খাতে শক্তিশালী পুনরুদ্ধার ঘটছে। সরবরাহ চেইনের সমস্যাও কমে গেছে। অন্যদিকে খারাপ খবর হলো, কয়েকটি দেশে সুদের হার বাড়ছে।
পাশাপাশি আর্থিক বাজারে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এসব বিষয় বাড়তি চাপ তৈরি করছে আঞ্চলিক অর্থনীতির ওপর। এতে চলতি বছর দক্ষিণ এশিয়ায় ভালো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনার জায়গাটি দুর্বল হয়ে গেছে।
দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের অর্থনীতির ওপর বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন পর্যবেক্ষণ। গত মঙ্গলবার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, চলতি বছর এ অঞ্চলে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) গড় প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। প্রবৃদ্ধির এ হার গত অক্টোবরে বিশ্বব্যাংকের দেওয়া পূর্বাভাসের চেয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট কম। আগামী বছর দক্ষিণ এশিয়ায় অর্থনৈতিক খানিকটা বেড়ে হতে পারে ৫ দশমিক ৯ শতাংশ। তবে সেটিও ২০২১ সালে করোনা-পরবর্তী প্রাথমিক পুনরুদ্ধারে হওয়া প্রবৃদ্ধির তুলনায় অনেক কম। সে বছর প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৮ দশমিক ২ শতাংশ।
বিশ্বব্যাংক বলছে, ঋণ সংকটে থাকা শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি না হয়ে উল্টো সংকোচন ঘটবে। প্রবৃদ্ধি হবে ঋণাত্মক। সংকটে থাকা আরেক দেশ পাকিস্তানে এ বছর খুব সামান্য প্রবৃদ্ধি হবে। এর বাইরে ভুটান ছাড়া বাকি সব দেশের জন্যই প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
এদিকে বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান অর্থনীতিবিদ হ্যানস টিমার বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কিছু চ্যালেঞ্জ আছে। তবে এগুলো শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের সংকটের সঙ্গে তুলনীয় নয়। মঙ্গলবার বিশ্বব্যাংকের ‘সাউথ এশিয়া ইকোনমিক ফোকাস’ প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এক অনলাইন ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
হ্যানস টিমার বলেন, বাংলাদেশের মূল চ্যালেঞ্জ আর্থিক খাতের সংকট এবং বৈদেশিক লেনদেনে বড় অঙ্কের ঘাটতি। ডলারের অনেক বিনিময় হার আর্থিক খাতে সমস্যা তৈরি করছে। অ্যাডহক ভিত্তিতে একেক সময় একেক রকম বিনিময় হার নির্ধারণ না করে পুরোপুরি বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত। আর্থিক খাতের বড় সংকট হলো উচ্চমাত্রার খেলাপি ঋণ। তৈরি পোশাকের মতো অন্যান্য রপ্তানি খাতে সমান মনোযোগ দিয়ে সামগ্রিক রপ্তানি বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।