ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি কমেছে আদার। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭৫ শতাংশ কম হয়েছে। ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা বলছেন, ভারতের বাজারেই সরবরাহ কম। এ কারণে রফতানিকারকরা বিক্রির পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন।
অন্যদিকে আমদানি কমে যাওয়ায় সাতক্ষীরার মসলা বাজারে তিন গুণ দাম বেড়েছে পণ্যটির। ব্যবসায়ীরা জানান, চাহিদার তুলনায় বাজারে সরবরাহ না থাকায় বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে আদা।
ভোমরা শুল্কস্টেশনের রাজস্ব শাখা থেকে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসে এ বন্দর দিয়ে আদা আমদানি হয়েছে ১৭ হাজার ৭৯৯ টন। যার আমদানি মূল্য ১৫২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। গত অর্থবছরের তুলনায় আমদানি অন্তত ৭৫ শতাংশ কম। সূত্রটি আরো জানায়, ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাস অর্থাৎ জুলাই-এপ্রিল পর্যন্ত ভোমরা বন্দর দিয়ে মসলা পণ্যটি আমদানি হয়েছিল ৭১ হাজার ৯২২ টন। যার আমদানি মূল্য ছিল ৬১২ কোটি টাকা। সে হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে আমদানি কমেছে ৫৪ হাজার ১২৩ টন।
ভোমরা স্থলবন্দরের অন্যতম মসলা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স রাফসান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. আবু হাসান জানান, ভারতে সরবরাহ কমে যাওয়ায় আদা আমদানি কমেছে। গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছর তার প্রতিষ্ঠানে আদা আমদানি কমেছে ৬০-৭০ শতাংশ।
তিনি আরো জানান, আমদানি কমায় দেশের বাজারে তিন-চার গুণ দাম বেড়েছে আদার। তাছাড়া আসন্ন কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করেও পণ্যটির দাম বাড়ছে।
জেলা শহরের সুলতানপুর বড় বাজারের মসলা আড়ত মেমার্স মামা-ভাগ্না ভাণ্ডারের পরিচালক মো. জহুরুল ইসলাম জানান, এক মাস আগেও যে আদা পাইকারি বিক্রি হয়েছে ৯০-১০০ টাকা কেজি দরে, তা গতকাল বিক্রি হয়েছে ৩৪০ টাকা দরে। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকায় লাফিয়ে দাম বাড়ছে। কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে মজুদ করছে কোনো কোনো ব্যবসায়ী। বিষয়টিও দাম বাড়ার পেছনে বড় ভূমিকা পালন করছে।
ভোমরা শুল্কস্টেশনের দায়িত্বরত কাস্টমসের ডেপুটি সহকারী কমিশনার নেয়ামুল হাসান আদা আমদানি কমে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এতে রাজস্ব আদায়ও কমে যাচ্ছে।