তরুণ প্রজন্মের অগ্রগতির অন্যতম অন্তরায় মাদক। মাদকের ছোবলে দেশের যুবসমাজ যেভাবে অপরাধের দিকে ধাবিত হচ্ছে, তা দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।
বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী, মাদকাসক্তির দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বে উদ্বেগজনক অবস্থানে রয়েছে। শিশু থেকে শুরু করে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই কোনো না কোনোভাবে এই মাদকের ভয়াল থাবার শিকার হচ্ছে।
এমন প্রেক্ষাপটে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহিববুল্লাহ মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধ দমনে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একসময় সোনারগাঁ উপজেলায় ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিস্তার ছিল প্রকট। সন্ধ্যার পর অনেক এলাকায় সাধারণ মানুষের চলাচলও ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের সক্রিয় ভূমিকার কারণে পরিস্থিতির দৃশ্যমান পরিবর্তন ঘটেছে। কমেছে অস্ত্রের ঝনঝনানি, সন্ত্রাসী তৎপরতা ও কিশোর অপরাধ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সোনারগাঁও থানায় মাদকসংক্রান্ত ৯৭টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় বহু আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের মুখে অনেক চিহ্নিত মাদক কারবারি এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার কয়েকটি নির্দিষ্ট স্থানে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হতো। বিশেষ করে ইয়াবার বিস্তার ছিল বেশি। তবে ওসি মহিববুল্লাহ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এসব এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে মাদক ব্যবসা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
সোনারগাঁ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অন্তত ১০ জন বাসিন্দা জানান, আগে দিনের বেলাতেও মাদক বিক্রি হতো এবং সন্ধ্যার পর সড়কে চলাচল ছিল আতঙ্কের। বর্তমানে সেই পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।
এ বিষয়ে ওসি মহিববুল্লাহ বলেন, আমার প্রধান লক্ষ্য মাদক ব্যবসা বন্ধ করে একটি মাদকমুক্ত সোনারগাঁ গড়ে তোলা। বলতে পারেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমি যুদ্ধ ঘোষণা করেছি। এ কারণে কিছু মাদক কারবারি ক্ষুব্ধ হয়ে ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করছে। তবুও আমি পিছু হটবো না।
তিনি আরও বলেন, যেখান থেকেই অভিযোগ আসছে, দ্রুত অভিযান চালানো হচ্ছে। আমি নিজেও অভিযানে অংশ নিচ্ছি। ঝুঁকি থাকলেও আমরা কাজ করে যাচ্ছি। মাদকের বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না।
পুলিশ জানায়, সোনারগাঁয়ে এখনও কিছু মাদক স্পট সক্রিয় থাকলেও সেগুলো চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে অভিযান চালানো হচ্ছে। প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় পরিচালিত মাদক ব্যবসাও কঠোর নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। নারী মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পুলিশের এ ধরনের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকলে সোনারগাঁ উপজেলাকে মাদকমুক্ত করা সম্ভব হবে।