কয়েক দফা ব্রয়লার মুরগির দাম বাড়লেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার অভিযোগ প্রান্তিক খামারিদের। ক্ষতির মুখে পড়ায় এরই মধ্যে অনেক খামার বন্ধ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় মুরগির বাজার স্থিতিশীল রাখতে ১ হাজার কোটি টাকার তহবিল চেয়েছেন প্রান্তিক খামারিরা। প্রান্তিক খামারিদের সংগঠন বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তহবিলের দাবি জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির সভাপতি সুমন হাওলাদার বলেন, বর্তমানে সারা দেশে ৬০ হাজার খামার টিকে আছে। এরই মধ্যে যেসব খামারি লোকসানে ব্যবসা ছেড়েছেন, তাদের ব্যবসায় ফিরিয়ে আনতে হলে সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা দিতে হবে। সে জন্য ১ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের প্রস্তাব করেছে বিপিএ। সংগঠনটি বলছে, দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের খামারিরা গড়ে ১০ লাখ টাকার ঋণে রয়েছেন। তাতে এ খাতের খামারিদের ঋণের পরিমাণ প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা। এ ঋণ পরিশোধে তহবিল সুবিধা চেয়েছে সংগঠনটি। পাশাপাশি তারা পোল্ট্রি বোর্ড গঠনেরও দাবি জানায়। এ বোর্ডের মাধ্যমে পোল্ট্রি ফিড ও বাচ্চার উৎপাদন খরচ হিসাব করে কত লাভে কোম্পানিগুলো তা বাজারজাত করতে পারবে, সেটি নির্ধারণেরও প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি।
এদিকে এক সপ্তাহের কম সময়ের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ৩০-৫০ টাকা বেড়েছে। আর সোনালি মুরগির দাম বেড়েছে ২০-৪০ টাকা। ব্যবসায়ীরা জানান, গতকাল বাজারে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ২৪০-২৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর সোনালি মুরগি বিক্রি হয় ৩৫০-৩৭০ টাকায়। গত সপ্তাহের শুরুতে ব্রয়লার মুরগির কেজি ছিল ২১০ টাকা। আর সোনালি মুরগির দাম ছিল ৩৩০ টাকা। রোজা শুরুর আগেও মুরগির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছিল। তখন বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম উঠেছিল ২৬০-২৮০ টাকা। পরে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মধ্যস্থতায় দেশের পোল্ট্রি খাতের চারটি বড় কোম্পানি রোজা চলাকালে পাইকারিতে ১৯৫ টাকায় প্রতি কেজি মুরগি বিক্রির ঘোষণা দেয়। এরপরই বাজারে মুরগির দাম কমে ২০০-২১০ টাকায় নেমে আসে।
বিপিএর পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, করপোরেট পুঁজিবাদীরা সরকারের সব সুযোগ-সুবিধা নিয়ে প্রান্তিক ক্ষুদ্র খামারিদের সঙ্গে স্বেচ্ছাচারিতা করে মুরগির বাচ্চা ও পোল্ট্রি ফিডের অযৌক্তিক দাম বাড়িয়ে উৎপাদন সরিয়ে দিচ্ছে। ভোক্তাদের জিম্মি করে বাজার থেকে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। গত বছরের আগস্ট মাসে ৫১৮ কোটি টাকা ও গত ৩১ জানুয়ারি থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ভোক্তা ও খামারিদের জিম্মি করে মুরগি ও বাচ্চা থেকে ৯৩৬ কোটি টাকা সিন্ডিকেট করেছেন। করপোরেট গ্রুপগুলোও থেমে নেই। মুরগির বাচ্চা থেকে প্রতিদিন ৬ কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন এবং ৫০ লাখ প্রান্তিক পর্যায়ের উদ্যোক্তাদের
ইচ্ছাকৃতভাবে লসের মুখে ফেলে শিল্পকে দখলের চেষ্টা করছে। সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে তারা।
বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির সভাপতি সুমন হাওলাদার আরও বলেন, আমি ১০০ ভাগ গ্যারান্টি দিয়ে বলছি, করপোরেট কোম্পানির এক কেজি ব্রয়লার মুরগির উৎপাদন খরচ সর্বোচ্চ ১৩০ টাকা মাত্র। কিন্তু খামারে ২৩০ টাকা পর্যন্ত বিক্রয় করেছেন ভোক্তা অধিদফতর যখন তাদের শোকজ করলে ১৯৫ টাকা বিক্রয় করলেও তাদের লস হবে বলে জানায়। তা হলে ১৯৫ টাকা খামারের বিক্রয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েও কোন ম্যাজিকে ১৫০-১৬০ টাকা বিক্রয় করলেন।
এর কারণ প্রান্তিক খামারি লাভের আশায় ফিড ও বাচ্চা বেশি দামে কিনে উৎপাদনে ফিরে এলে এক কেজি ব্রয়লার মুরগির উৎপাদন খরচ দাঁড়ায় ১৭০-১৭৫ টাকা। কিন্তু করপোরেট গ্রুপ কম দামে বিক্রয় করে খামারিদের আরও একবার লসে ফেলে নিঃস্ব করে দিয়েছে। খামারিদের কন্ট্রাক খামারে যেতে বাধ্য করে, যাতে পুরোপুরি পোল্ট্রি বাজার তাদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করে। বারবার বাজার সিন্ডিকেটকারীদের বিরুদ্ধে জরিমানা নয়, ফৌজদারি মামলা করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে যাতে অন্য কেউ সিন্ডিকেট করতে আর সাহস না পায়।