আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন এবং রাষ্ট্রের দিকনির্দেশনা নিয়ে রাজধানীর জাতীয় আর্কাইভে সোমবার অনুষ্ঠিত হলো গবেষণা প্রতিষ্ঠান দেশ ফাউন্ডেশন আয়োজিত বিশেষ টাউনহাল— “দেশ টাউনহাল: বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।”
গবেষণা-নির্ভর এই সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তির জন্য বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত অতিথিরা বলেন— “জাতীয় নেতৃত্বের সুস্বাস্থ্যই গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার অন্যতম ভিত্তি।”
বক্তব্যের শুরুতেই তিনি খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, “আমাদের প্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জীবনের খুব কঠিন এক সন্ধিক্ষণে আছেন। আমরা সবাই উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। আমি তার সুস্থতা ও আরোগ্য কামনা করি।”
গণতন্ত্রের বর্তমান সংকট প্রসঙ্গে রিজভী বলেন—
“বাংলাদেশে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন ছাড়া গণতন্ত্রের ভিত্তি শক্ত হয় না।”
প্রশ্নোত্তর পর্বে এক অংশগ্রহণকারী জানতে চান—বিএনপির প্রতিশ্রুতির ধরন কী হওয়া উচিত?
উত্তরে রিজভী বলেন, “সাধ্যের মধ্যে প্রতিশ্রুতি হওয়া উচিত। সাধ্যের বাইরে প্রতিশ্রুতি মানে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা। আর জনগণ সেটা কখনই ক্ষমা করবে না।”
তিনি যোগ করেন, “ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য জনগণকে বিভ্রান্ত করা বিএনপির রাজনীতি নয়।”
তরুণদের ‘পরিবর্তনের চালিকাশক্তি’ হিসেবে তুলে ধরে রিজভী বলেন, “তরুণদের প্রশ্ন করার ক্ষমতা, বিশ্লেষণ করার অভ্যাসই এই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। তারা মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে আর বিভ্রান্ত হয় না।”
আলোচনায় কেন্দ্রে ছিল আস্থা, অধিকার ও সার্বভৌম সিদ্ধান্ত
টাউনহালে আলোচক ও অংশগ্রহণকারীরা যে বিষয়গুলো গুরুত্ব দেন—
গণতান্ত্রিক পুনর্নবীকরণ
সংখ্যালঘু অধিকার ও নিরাপত্তা
বৈদেশিক নীতি
সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণ
অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা
রাজনৈতিক সংস্কৃতির সহনশীলতা
এই প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, “ধানের শীষ জনগণের ম্যান্ডেট পেয়েছে। মানুষ এখনো জাতীয়তাবাদী দলের ওপর আস্থা রাখে।”
দেশ ফাউন্ডেশনের পরিচালক, দেবজিৎ সাহা জানায়,“এই টাউনহাল থেকে উঠে আসা অভিজ্ঞতা ও পর্যালোচনা আমাদের নীতি–গবেষণা, সুপারিশ এবং গণতান্ত্রিক শাসন শক্তিশালীকরণের কাজে ব্যবহার করা হবে।”
প্রতিষ্ঠানটির মতে, নির্বাচনপূর্ব এ ধরনের নীতি-সংলাপ দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে আরও স্বাস্থ্যকর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দায়িত্বশীল করে তোলে।
নাগরিক সমাজ ও তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ টাউনহালে অংশ নেন—একাডেমিক সাংবাদিক নীতি–গবেষক নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি তরুণ পেশাজীবী
তাদের প্রশ্ন ও মতামতের ভিত্তিতে পুরো অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় একটি অংশগ্রহণমূলক গণসংলাপে।
বাংলাদেশের বিজয়ের মাস ডিসেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে দেশ ফাউন্ডেশনের এক মুখপাত্র বলেন, “ডিসেম্বর আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় আমরা জাতি হিসেবে কে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা কী। বিজয়ের চেতনাকে ধারণ করতে হলে প্রয়োজন উন্মুক্ত, নীতিনিষ্ঠ ও গবেষণাভিত্তিক সংলাপ।”
তিনি আরও বলেন, “দেশ টাউনহাল সেই সংলাপের প্ল্যাটফর্ম—যেখানে নাগরিকরা জাতীয় নেতাদের কাছ থেকে শুনতে পারেন স্পষ্ট নীতি-দৃষ্টিভঙ্গি, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং জবাবদিহিমূলক প্রতিশ্রুতি।”
এই আয়োজনে অংশ নেন একাডেমিক, সাংবাদিক, নীতি–গবেষক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিসহ তরুণ পেশাজীবীরা। এই টাউনহাল থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা দেশ ফাউন্ডেশনের গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক রূপান্তর সম্পর্কিত বৃহত্তর উদ্যোগে ব্যবহৃত হবে।
দেশ ফাউন্ডেশন একটি অরাজনৈতিক, নীতিনিষ্ঠ বাংলাদেশি থিংক-ট্যাংক, যা অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিনির্ধারণ এবং গণতান্ত্রিক সুশাসনকে এগিয়ে নিতে কাজ করে। গবেষণা, সংলাপভিত্তিক ফোরাম এবং সহযোগিতামূলক উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি—
নাগরিক অংশগ্রহণ বাড়ানো,
গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা এবং
একটি ন্যায্য, অংশগ্রহণমূলক ও সমতাভিত্তিক বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে কাজ করে।