নিজস্ব প্রতিবেদক: দির্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বাংলার স্বাধীনতা এনেছিল বাংলার দামাল ছেলে অর্জিত হয়েছিল লাল-সবুজের এক জাতীয় নিশান, অর্জিত হয়েছিল এক বাংলার মানচিত্র সেই অর্জিত বাংলাদেশের ৪৯তম বিজয় দিবস আজ। এইসঙ্গে শুরু হলো বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীর ক্ষণগণনা । আর মাত্র ৩৬৪ দিনের অপেক্ষা।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাঙালি জাতি দেখেছিল স্বাধীন এক রাষ্ট্রের স্বপ্ন।
বিশ্বকে তাক লাগিয়ে সেই রাষ্ট্র এগিয়ে চলছে উদ্যম গতিতে। এই রাষ্ট্রের আর পেছনে ফিরে তাকানোর সুযোগ নেই, বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ আজ এক উজ্জ্বল পরিচিতি।
পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্তি লাভ হয়েছিল মহান বিজয়ের এই দিনে। বাঙালি জাতির জন্য এক অনন্য স্মৃতিবিজড়িত দিন ১৬ ডিসেম্বর। এদিন স্মরণ করা হবে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের, যাদের আত্মত্যাগে জন্ম নিয়েছিল বাংলাদেশ নামক এক ভূখণ্ডের।
দেশকে স্বাধীন করার জন্য বাঙালি জাতিকে পাড়ি দিতে হয়েছে এক দীর্ঘ পথ। পশ্চিম পাকিস্তানিদের চরম নিপীড়ন, শোষণ আর নির্যাতনের বিরুদ্ধে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে, যার যা কিছু আছে তা নিয়েই সংগ্রামের পথ দেখান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দরাজ কণ্ঠে হুংকার দিয়ে বলেছিলেন –‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’।
ভাষাবিদ এবং শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ রাষ্ট্র সম্পর্কে সংবিধানে যে চারটি মূলনীতি দেওয়া আছে সেই অনুযায়ী যেন ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ে উঠতে পারে সেই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নাট্যজন ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হাসান ইমাম মনে করেন অন্ধবিশ্বাসের দিকে না ঝুকে তরুণদের নিজেদের মেধামনন দিয়ে বিচার করে কর্মপন্থা নির্ধারণ করতে হবে। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তি মাঠে নামছে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে। তারা যে ইস্যুকে কেন্দ্র করে নামছে তা নয়, তার উদ্দেশ্য মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে আমরা যে সরকার গঠন করেছি, দেশকে পরিচালনা করা হচ্ছে সেটাকে পাল্টে দিয়ে সাম্প্রদায়িক দেশে পরিণত করা। এর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে আমাদের জয়যুক্ত হতে হবে।
দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তিতে আমাদের প্রত্যাশা আমাদের সন্তান এবং তাদের সন্তান যাতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলার মাটিতে বসবাস করতে পারে সেই পথ প্রশস্ত করা।
তিনি আরও বলেন, দেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশ আজকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর কাছাকছি চলে গেছে। সেই উন্নয়নের সুফল কারা পাবে সেদিকেও দৃষ্টি রাখতে হবে।
তরুণদের উদ্দেশ্যে হাসান ইমাম বলেন, মানুষ এগিয়েছে নিজের বুদ্ধি আর মেধা দিয়ে। একসময় মানুষ বন্যপ্রাণীর মতো ছিল, তারা আজকে শুভ জাতিতে পরিণত হয়েছে মেধা এবং মনন দিয়ে। আমরা যেন কোনও অন্ধবিশ্বাস না করি, আমরা নিজের বুদ্ধি দিয়ে বিশ্লেষণ করে যাতে কর্মপন্থা নির্ধারণ করতে পারি।
সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহেমদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।
আমরা আশা করবো বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে এবং স্বাধীনতার যে সূর্য উদিত হয়েছে সেটা আমরা বলবত রাখবো, যাতে করে বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পারে এবং বিশ্ব দরবারে স্থান করে নিতে পারবে। সেটাই আমাদের প্রত্যাশা। আমরা আশা করি নিশ্চয়ই তার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, তরুনদেরকেও সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে। শিক্ষক এবং অভিভাবক যারা আছেন তারা যেন তরুণদেরকে সেভাবে তৈরি করেন। যাতে করে বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থেই পৃথিবীতে একটি উচ্চ স্থান দখল করতে পারে।
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দিন ইউসুফ বলেন, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন রাষ্ট্রের বিরোধিতা করে যারা কার্যক্রম চালায় তারা মুক্ত বাংলাদেশ দেখতে চাই। আমি একেবারেই স্বাধীন মুক্ত , নারী অধিকার, শিশু অধিকার সব কিছুর প্রতিষ্ঠা দেখতে চাই। সেখানে এই ঘাতকরা থাকবে না।
একটি দেশই চাই। সম্ভব না এটা, অসম্ভব একটি কল্পনা কিন্তু স্বপ্ন তো দেখতে হবে যেটা আগামীতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে খুব ভালো একটা ফিজিক্যাল উন্নয়ন হয়েছে বাংলাদেশের। কিন্তু আমি মনে করি আমাদের অন্য জায়গাগুলিতে সরকারের এখন নজর দেওয়া উচিত। শিক্ষার দিক দিয়ে মাদরাসা শিক্ষায় নজর দেওয়া উচিত।
এই উন্নয়নের মহাসড়ক ধরেই কিন্তু রাজাকার আল বদররা আমাদের ওপর গাড়ি চাপিয়ে আসবে। সুতরাং উন্নয়নে একটি দ্বিমুখী ব্যাপার আছে।