বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩৬ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
কিশোরগঞ্জে হাওরের অতিবৃষ্টির কারণে কৃষকের স্বপ্ন ডুবে যাচ্ছে পানির নিচে লালমনিরহাটে কৈশোরকালীন স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতনতা মূলক সভা অনুষ্ঠিত মুকসুূদপুর জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান উপকূলীয় অঞ্চলে ক্রমাগত লবনাক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় পাইকগাছায়” পানি সংলাপ” অনুষ্ঠিত দিনাজপুর সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ এর বাছাই পর্ব অনুষ্ঠিত শরণখোলায় বজ্রপাতে চার গরুর মৃত্যু ঠাকুরগাঁওয়ে ২শ’ হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান সালথার আটঘর ইউপি চেয়ারম্যান সোহাগ খান গ্রেপ্তার কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকের ন্যায় সংগত অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি কুড়িগ্রামের বিশিষ্ট জনদের এমপির নির্দেশনা উপেক্ষা করে খেলার মাঠ দখলের পাঁয়তারা বিআইডব্লিউটিসি’র দুর্যোগের পূর্বাভাসে সুনামগঞ্জের বরাম হাওরে দ্রুত ধান কাটার নির্দেশ জেলা প্রশাসকের বাঁধ ভাঙার দায় কার? প্রশাসন আর প্রকৃতির রোষে সর্বস্বান্ত হাওরবাসী ডিসি সম্মেলনে ৪৯৮টি প্রস্তাবের ওপর আলোচনা হবে ফুলবাড়ীতে তিনদিন ব্যাপী ভ্রাম্যমাণ বইমেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসবের উদ্বোধন ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় বালু বোঝাই ট্রলি দুর্ঘটনায় চালকের মৃত্যু কাপ্তাইয়ে বড়ইছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ড্রেন সংস্কার কাজের শুভ উদ্বোধন কাউখালীর আশোয়া গ্রামটি নদীভাঙনে বিলুপ্তির পথে কাউখালীর সন্ধ্যা নদীতে কোস্টারের ধাক্কায় ফেরি ক্ষতিগ্রস্ত, ট্রলার ডুবি জামালপুরে বজ্রপাতে দুইজনের মর্মান্তিক মৃত্যু মতলব উত্তর পাঁচগাছিয়ায় দারুল উলুম মাদ্রাসায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও অভিভাবক সম্মেলন অনুষ্ঠিত চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেন্ডার সংবেদনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গ্রাম আদালত উৎসব অনুষ্ঠিত নকলমুক্ত পরিবেশে এইচএসসি পরীক্ষা ও শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত নদীতে বৃদ্ধ নিখোঁজ—দুই দিনেও সন্ধান মেলেনি ঠাকুরগাঁওয়ে ব্যতিক্রমী চড়ক মেলা ও চারিকারু প্রর্দশন: গ্রামীণ ঐতিহ্যের রঙে মুখর প্রত্যন্ত জনপদ ন্যায়বিচারের বার্তা নিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উদযাপন সালথায় জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত পটুয়াখালীতে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২৬ পালিত মে দিবস উপলক্ষে দিনাজপুরে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের লিফলেট বিতরণ মাদারগঞ্জে ৫শ পিস ইয়াবাসহ মাদককারবারী আটক-২ র‍্যাব-১৩ এর পৃথক অভিযানে ২৪৪ বোতল মাদকদ্রব্যসহ আটক, গ্রেপ্তার-৫

পটুয়াখালীর ঐতিহ্যবাহী শিশু হাসপাতাল এখন ডা: সালমা’র টেস্ট বাণিজ্য কেন্দ্র

রিপন কুমার দাস, পটুয়াখালী
সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৪৭ অপরাহ্ন

পটুয়াখালীর অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের চিকিৎসার প্রাণকেন্দ্র আবু মিয়া শিশু হাসপাতালটি এখন ডা: সালমা আক্তার এর ব্যক্তিগত টেস্ট বাণিজ্যের কেন্দ্রে পরিনত হয়েছে । অভিযোগ উঠেছে ডা: সালমা আক্তার তার বাবার প্রতিষ্ঠান ট্রু-প্যাথলজি কে বাঁচাতে অনৈতিক ভাবে এই টেস্ট বাণিজ্যে লিপ্ত। তার এই টেস্ট বানিজ্যের শিকার সেবা প্রত্যাশী অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পরিবারগুলো। ডা: সালমা আক্তারের টেস্ট বানিজ্য,অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়টি এখন ওপেন সিক্রেট।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, পটুয়াখালীর সাবেক জেলা প্রশাসক ও আবু মিয়া শিশু হাসপাতাল কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি অমিতাভ সরকারের সময় মেডিকেল অফিসার হিসেবে শর্তসাপেক্ষে ২০১৫ সালের ২৬ আগস্ট নিয়োগ পান ডা: সালমা আক্তার। পরবর্তীতে নিয়োগের শর্তভঙ্গ এবং টেস্ট বানিজ্যসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠলে ২০২৪ সালের ৬ মে কার্যনির্বাহী কমিটির মিটিংয়ের সিদ্ধান্তে চাকরিচ্যুত হন তিনি। চাকরি হারানোর মাত্র ৬ মাসের মাথায় তৎকালীন হাসপাতাল কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফিন কে ম্যানেজ করে একই বছর আবার ১৫ নভেম্বর চাকরিতে পূর্নবহাল হন চাকরিচ্যুত ডা: সালমা । তবে ডা: সালমা আক্তারকে কর্মস্থলে সময় মতো উপস্থিত থাকা,এন্টিবায়োটিক প্রেসক্রাইব না করা,রোগীদের অপ্রয়োজনীয় টেস্ট এবং টেস্ট পরীক্ষা- নিরীক্ষার জন্য ক্লিনিক নির্দিষ্ট করে না দেয়ার শর্তে
কমিটি পর্যবেক্ষণ মূলক ২ (দুই) মাসের জন্য চাকরিতে বহাল করলেও পরবর্তী ১৭ মাসে খোঁজ নেননি কেউ। আর এ সুযোগেই বেপারোয়া হয়ে ডা: সালমা আক্তার পূনরায় শুরু করেন টেষ্ট বানিজ্য ও স্বেচ্ছাচারিতা।

ঢাকা প্রতিদিনের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ডা: সালমা প্রায় প্রত্যেক রোগীকেই দেন অ-প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা। সেগুলো তার বাবার প্রতিষ্ঠান ট্রু-প্যাথলজিতে করানোর নির্দেশনাও থাকে ।এজন্য ধরিয়ে দেন ট্রু-প্যাথলজির ঠিকানা সম্বলিত ভিজিটিং কার্ড। পরীক্ষা না করলে প্রেসক্রাইব করেন না ওষুধ। এছাড়াও তিনি সময় মত উপস্থিত হন না হাসপাতালে। দুপুর ১২ টার পরে নেন না কোনো রোগীর সিরিয়াল, ৩টা পর্যন্ত তার কর্মস্থলের সময় থাকলেও আগেই বের হয়ে যান তার বাবার প্রতিষ্ঠান ট্রু-প্যাথলজিতে। হাসপাতালে ডিউটি রত অবস্থায় অন কলে চলে যান অপর কর্মস্থল নগর মাতৃসদন চিকিৎসা কেন্দ্রে। ডা: সালমার এই স্বেচ্ছাচারিতায় যেমনি সেবা বঞ্চিত হচ্ছে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা, তেমনি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পটুয়াখালীর ঐতিহ্যবাহী এই হাসপাতালটি। তথ্য মতে, ২০১৯ সালে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা ছিল ১০৭১৮ জন, ২০২০ সালে ৪৯১০ জন, ২০২১ সালে ৭৯২৮ জন,২০২২ সালে ৬৭৭৫ জন,২০২৩ সালে ৬০৯১ জন,২০২৪ সালে রোগীর সংখ্যা নেমে দাড়িয়েছে ৪৬১৬ জনে। এভাবে চলতে থাকলে এক সময়কার ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংস হয়ে যাবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

সার্বিক বিষয় ডা: সালমা আক্তারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আবু মিয়া শিশু হাসপাতলে আগে যখন এতো সমস্যা ছিল তখন তো আপনারা কেউ আসেননি।জানালা ভাঙ্গা ছিল, বৃষ্টির পানির মধ্যে রোগী দেখেছি তখন তো আপনারা কোনো প্রতিবেদন করতে আসেননি। এখন কেন এসেছেন? আমি ১১ বছর ধরে চাকরি করি আমার কোনো ইনক্রিমেন্ট হয় নাই। এতদিনে না হাসপাতাল প্রশাসন, না আপনারা, কেউ আসেননি। এখন আপনারা এসেছেন।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী সিভিল সার্জন ও আবুমিয়া শিশু হাসপাতাল কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সচিব ডা: মোহাম্মদ খালেদুর রহমান মিয়া বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আবু মিয়া শিশু হাসপাতালের কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক মহোদয়। এ বিষয়ে আমি তার সাথে
কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।

বিষয়টি নিয়ে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ও আবুমিয়া শিশু হাসপাতাল কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী’র কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,
নির্বাচন,রোজা, ঈদ এই বিষয়গুলোর কারনে অন্য রুটিন ওয়ার্ক গুলো একটু বিলম্বিত হয়ছে।এখন আমি বিষয়টি জানলাম। যে শর্তে ওনার নিয়োগটা বহাল রাখা হয়েছে সে’টি ফুলফিল করেছেন কিনা, না করলে যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সাধারন মানুষ মনে করেন, ঐতিহ্যবাহী এই শিশু হাসপাতালটি ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে এ অঞ্চলের শিশুদের চিকিৎসায় নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচয় বহন করলেও বর্তমানে ডা: সালমা আক্তারে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।


এই বিভাগের আরো খবর