প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কে উদ্দেশ্য করে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধানের সাম্প্রতিক একটি মন্তব্যে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
সরকার ও দলীয় প্রধানকে নিয়ে শিষ্টাচার বহির্ভূত বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা তার বাসার সামনে অবস্থান নিলে চরম বিশৃংখল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।এসময় তার বাসভবন লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ করার পাশাপাশি নানা ধরনের প্রতিবাদী স্লোগান দেয় নেতাকর্মীরা।এ উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে রাশেদের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) জনি নন্দীকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে রাশেদ প্রধানের বাসার সামনে অবস্থান নেন বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী। স্থানীয় সূত্র জানায়,রাশেদ প্রধানের মন্তব্যের প্রতিবাদে বিএনপির নেতাকর্মীরা জড়ো হলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।একপর্যায়ে পিএস জনি নন্দী ইট হাতে দৌড়ে আসলে তাকে মারপিট করে। তখন পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয় এবং তারা দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার
চেষ্টা চালায়।
যুবদল নেতা কাইয়ুম জানান,একজন সরকার প্রধান কে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত বক্তব্যের জন্য রাশেদ প্রধানকে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় কঠোর কর্মসুচি ও আইনী ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।
জাগপা’র একজন কেন্দ্রীয় নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,পুলিশের উপস্থিতিতে একটা দলের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার বাসভবনে এরকম জোরজুলুম এবং ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করার ঘটনা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। সরকার দলের নেতাকর্মীরা খুবই অন্যায় করেছে।যদি বক্তব্যে কোনো ভুল ত্রুটি হয়ে থাকে প্রয়োজনে তার বিরুদ্ধে আইনের দ্বারস্থ হতে পারতেন। এ ঘটনা খুবই দু:খ জনক।
তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা জানান, উত্তেজনার এক পর্যায়ে রাশেদ প্রধানের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) জনি নন্দী উসকানিমূলক আচরণ করলে তাকে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ হেফাজতে নেয়।
তিনি আরও জানান, জনি নন্দী বর্তমানে থানায় রয়েছেন এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এলাকায় যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সমালোচনা করতে গিয়ে অশোভনীয় কটূক্তি করেন রাশেদ প্রধান। এ নিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে সমালোচনার ঝড় বইছে। রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত মন্তব্যের জন্য অনেকে রাশেদ প্রধানকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।