মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ১১:০২ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
ডিআইজি রেজাউলের বক্তব্যে শীর্ষ কর্মকর্তাদের অসন্তোষ সালমান ও আনিসুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়েছে আমতলীতে নিজ মেয়েকে ধর্ষনের ১৭দিন পর ধর্ষক বাবা ওসমান মোল্লা গ্রেপ্তার মাদারগঞ্জে ভিজিডির ৪৬ বস্তা চাল উদ্ধার হোমনায় মাদকবিরোধী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় সভা নান্দিনায় পৈত্রিক সম্পত্তি জবরদখলের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার ঝালকাঠি সরকারি কলেজে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ সমাবেস অনুষ্ঠিত গাজীপুর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কাভার্ড ভ্যানের চাপায় রিকশাচালক নিহত কুড়িগ্রামে পরিবহন শ্রমিকদের বিপদের বন্ধু আমিনুর রহমান বাচ্চু সাতক্ষীরায় নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন শক্তিশালীকরণ বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হোমনায় দুই মাদক কারবারিকে ভ্রাম্যমান আদালতের কারাদণ্ড তারাকান্দায় খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী পটুয়াখালীতে লতিফ স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির বিরুদ্ধে মানববন্ধন ফটিকছড়িতে বাস-পিকআপ সংঘর্ষ, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর ঠাকুরগাঁওয়ে বায়োপেস্টিসাইড ব্যবহারে কর্মশালা অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁওয়ে ব্রি ধান-১০২ সম্প্রসারণে কৃষকদের নিয়ে মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত দিনাজপুরে শীর্ষ সন্ত্রাসী মুসা ও হানি ট্রাপিং চক্রের সহযোগী আয়শা সিদ্দিকা আটক চুনারুঘাটে গ্রাম আদালত বিষয়ক ত্রৈ-মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত চার মাসে ৩৯ খুন,আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর ধারাবাহিক হামলায় জনমনে আতঙ্ক নগরকান্দায় তুচ্ছ ঘটনায় ছোট ভাই কর্তৃক বড় ভাইয়ের হাতের কব্জি কর্তন আন্তর্জাতিক নার্স দিবসে কাপ্তাই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে র‌্যালি ও আলোচনা সভা বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম ও মাদক প্রতিরোধে অ্যাডভোকেসি ক্যাম্পেইন অফিসে অনিয়মিত এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী সেবায় ভোগান্তি, বাড়ছে ফাইলজট. সাক্ষাৎ প্রার্থীদের ক্ষোভ ডিসিআরভুক্ত জমি নিয়ে বিরোধ, অসহায় পরিবারের বসবাস নিশ্চিতের দাবি কাউখালীতে আন্তর্জাতিক নার্সেস দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা হাসপাতালে রোগীর আর্তনাদ, নিচে নার্সদের ব্যান্ড পার্টি ও উদ্দাম নাচ আনোয়ারায় আলোচিত গৃহবধূ মৃত্যু: অভিযুক্ত স্বামী আটক প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম তুহিনকে মন্ত্রিসভায় দেখতে চায় প্রকৌশলী সমাজ কাউখালীতে পারিবারিক কলহের কারণে জেলের আত্মহত্যা ফটিকছড়িতে সাপের কামড়ে শিশুর মৃত্যু

চার মাসে ৩৯ খুন,আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর ধারাবাহিক হামলায় জনমনে আতঙ্ক

মাহফুজ জাহিদ
মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ৮:২৮ অপরাহ্ন

নারায়ণগঞ্জের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেন কিছুতেই উন্নতি হচ্ছে না। একের পর এক খুন, ছিনতাই, ডাকাতি, মাদকের বিস্তার, প্রকাশ্যে অস্রের মহড়া ও হামলা নগরবাসীকে আতঙ্কগ্রস্ত করে তুলছে।

বিশেষ করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপর ধারাবাহিক হামলা তাদের ভাবিয়ে তুলেছে।পুলিশ সুপারের কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে ৩৯ হত্যাকাণ্ড ,১০৭ চুরি,৩৯ ছিনতাই এবং ২০ টি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনাও রয়েছে। অবস্থা এমন পর্যায়ে গেছে, মানুষ এখন দিনে বেড় হতেও ভয় পাচ্ছেন।যেখানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীই নিরাপদ নয়, সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের জন্য কতটুকু সম্ভব হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী এড. রোকন উদ্দিন জানান,সাম্প্রতিক সময়ে জেলার বিভিন্ন স্থানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর একের পর এক হামলার কারণে জনসাধারণের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।খোদ নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর যদি হামলা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় গিয়ে নিরাপত্তা পাবে? সামাজিক অবক্ষয় এবং পারিবারিক শিষ্টাচারের অভাবে অহরহ এসব ঘটনা ঘটছে।যে কারণে সাধারণ মানুষ রাতের বেলা তো বটেই দিনের বেলাও বেড় হতে ভয় পাচ্ছেন।এমন অবস্থার উন্নতি না হলে জনগণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর আস্থা হারাবে।

এড. উত্তম সাহা ক্ষোভ প্রকাশ বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যেখানে হামলার শিকার হচ্ছে, সেখানে আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে কে? পুলিশই যদি নিরাপদ না থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় নিরাপদ থাকবে কী করে?

অ্যাডভোকেট আব্দুর রহিম বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর করেই আমরা চলাফেরা করি। তারাই যদি নিরাপদ না থাকে তাহলে কিভাবে নিরাপদ থাকবো। আমরা এখন বাড়ি থেকে বের হতে ভয় পাই। এসব সন্ত্রাসীদের কারণে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি।

তথ্যানুযায়ী গত দুই মাসে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপর ছয়টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। সবশেষ ৬ মে ফতুল্লার কাশিপুরের হাশেমবাগ এলাকায় অভিযানে গিয়ে একদল পুলিশের সদস্য অবরুদ্ধ পরিস্থিতির মুখে পড়েন। এসময় আটক পাঁচ আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটে। যদিও ওই ঘটনায় কোনো পুলিশ সদস্য আহত হননি।

এর আগে ৫ মে শহরের বোয়ালিয়া খাল লিচুবাগ এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ধরতে গিয়ে র‌্যাব সদস্যরা হামলার শিকার হন। এসময় দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তিন র‌্যাব সদস্য গুরুতর আহত হন। পরে যৌথবাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারসহ ১৩ জনকে আটক করা হয়।

নগরবাসীর দাবী, সাম্প্রতিক সময়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার কারণে জনসাধারণের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর যদি হামলা হয় তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় গিয়ে নিরাপত্তা পাবে? সামাজিক অবক্ষয় এবং পারিবারিক শিষ্টাচারের অভাবের কারণেই এসব ঘটনা ঘটছে। আর এসকল ঘটনার কারণে সাধারণ মানুষ রাতের বেলা তো বটেই দিনের বেলাও ভয় পায়। এ অবস্থার উন্নতি না হলে জনগণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর আস্থা হারাবে।

এদিকে গভীর রাতে রূপগঞ্জের চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র এলাকায় পুলিশের গাড়ি থেকে একাধিক মামলার আসামি শামীমকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে ওই ঘটনায় জড়িত ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

গত ৩০ এপ্রিল বন্দরের পুরান বন্দর এলাকায় ছিনতাইয়ের অভিযোগ তদন্তে গিয়ে সংঘবদ্ধ হামলার শিকার হন পুলিশ সদস্যরা। হামলায় এক কনস্টেবলের আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং সরকারি অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

একইভাবে গত ১৫ মার্চ শহরের উকিলপাড়া রেললাইন এলাকায় দুই পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে রাতেই অভিযানে নেমে অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

গত ৯ মার্চ ভোরে শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকায় শীতলক্ষ্যা পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) লুৎফর রহমানকে কুপিয়ে তার অস্ত্র ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। পরবর্তীতে বন্দর থেকে অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ।

শহরে এখন আর কেউ নিরাপদ বোধ করছেন না জানিয়ে নগরীর মাসদাইর এলাকার বাসিন্দা রকিব হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‌আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যেখানে হামলার শিকার হচ্ছে, সেখানে আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে কে? পুলিশই যদি নিরাপদ না থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় নিরাপদ থাকবে কী করে?

কবির হোসেন নামের একজন ব্যবসায়ী বলেন, রাতে দোকান বন্ধ করে বাসায় ফেরার সময় এখন ভয় লাগে। মোবাইল, টাকা কিংবা মোটরসাইকেল নিয়ে বের হলে সবসময় আতঙ্কে থাকতে হয়।

এ বিষয়ে সদর-বন্দর আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো উদ্বেগজনক হলেও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। ভবিষ্যতে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে বলে আমরা আশাবাদী।

সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, যারা এসব হামলা করেছে তাদের গ্রেফতার করার সক্ষমতা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর রয়েছে। অপরাধীরা দ্রুত আইনের আওতায় আসবে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেই আছে।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার নিন্দা জানান জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ।

তিনি বলেন, অভিযানের ক্ষেত্রে বাহিনীরও পদ্ধতিগত সতর্কতা থাকা জরুরি। অনেক সময় ড্রেসকোড বা পরিচয় নিশ্চিত না থাকলে অপরাধীরা প্রতিপক্ষ ভেবে হামলা চালায়। এসব বিষয়ে আরও সচেতনতা প্রয়োজন।

গণসংহতি আন্দোলনের জেলা সমন্বয়কারী তরিকুল সুজন বলেন, মানুষ বিপদে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আশ্রয় নেয়। যখন সেই বাহিনীই হামলার শিকার হয়, তখন সাধারণ মানুষ আস্থা হারায়। হামলাকারীদের পাশাপাশি তাদের পৃষ্ঠপোষকদেরও আইনের আওতায় আনা জরুরি।

র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ এএইচ এম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, র‌্যাবের ওপর হামলার ঘটনায় আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। এরইমধ্যে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে উল্লেখ করে জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সি বলেন, হামলা ও অপরাধের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানাই।


এই বিভাগের আরো খবর